পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বৃহস্পতিবার টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অপহরণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানান। তিনি নেতানিয়াহুকে “মানবতার সর্বনিম্ন অপরাধী” বলে বর্ণনা করে, এমন একটি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন যা তিনি মানবিক ন্যায়বিচার হিসেবে দেখেন।
আসিফের মতে গাজা অঞ্চলে সংঘটিত নৃশংসতা ইতিহাসের কোনো অন্য ঘটনার সমতুল্য নয় এবং এই অপরাধের পরিণতি স্বীকার না করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক দায়িত্বকে ক্ষুণ্ণ করে। তিনি গাজা সংকটকে এমন এক পর্যায়ে তুলে ধরেন যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা অতীতের কোনো সংঘর্ষের চেয়েও বেশি।
সাক্ষাৎকারে তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপকে উদাহরণ হিসেবে তুলে নিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করে তবে নেতানিয়াহুকে অপহরণ করা উচিত বলে জোর দেন। তাছাড়া তিনি তুরস্ককেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে সক্ষম বলে উল্লেখ করেন, ফলে দুই দেশের সম্ভাব্য সামরিক বা গোপনীয় হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
খাজা আসিফ জানান, পাকিস্তানি জনগণ এই মুহূর্তের জন্যই প্রার্থনা করছে এবং তিনি নেতানিয়াহুর সমর্থকদের শাস্তি দেওয়ার প্রশ্নও উত্থাপন করেন। তার বক্তব্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে গাজা সংকটের সমাধানে দৃঢ় পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।
সাক্ষাৎকারের সময় হোস্ট হামিদ মীর আসিফের মন্তব্যকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি পরোক্ষ ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করে, অনুষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। মীরের এই পদক্ষেপটি দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা প্রকাশ করে।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার, যিনি বর্তমানে ভারতে দায়িত্ব পালন করছেন, একই সময়ে গাজা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ গাজা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং ফিলিস্তিন বিষয়ক কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। এই ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি দেশের বিদেশ নীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে প্রভাব ফেলেছে, যা এখনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্পষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে আমেরিকান নীতি নির্ধারকদের জন্য এই ধরনের দাবির মোকাবিলা জটিল হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতি এবং পাকিস্তানের এই অনুরোধের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা কূটনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
তুরস্কের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আসিফের ইঙ্গিত, তুর্কি-ইসরায়েলি সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা এবং তুর্কি-আমেরিকান কূটনৈতিক সমন্বয়ের প্রেক্ষাপটে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে। তুরস্ক যদি সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করতে পারে।
এই ঘটনাটি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাকিস্তানের এই ধরনের রেটোরিক্স ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে, তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক এবং অন্যান্য প্রধান শক্তির কূটনৈতিক কৌশলকে প্রভাবিত করবে।
সারসংক্ষেপে, খাজা আসিফের যুক্তরাষ্ট্রকে নেতানিয়াহুকে অপহরণ করার আহ্বান, গাজা সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়িয়ে তুলেছে এবং অঞ্চলের কূটনৈতিক গতিপথে নতুন জটিলতা যুক্ত করেছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে এই বিষয়ের ওপর আলোচনার ফলাফল গাজা ও সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।



