যশোরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সময় নকলের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইশতিয়াক আহমেদ এবং বেলাল হোসেন খান নামের দুজনই পরীক্ষার সময় অবৈধ উপায় ব্যবহার করার অভিযোগে আটক হয়েছেন। উভয় ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া চলমান, ফলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সকাল ১১টায় সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার কক্ষের মধ্যে ইশতিয়াক আহমেদকে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করার সন্দেহে থানা দল আটক করে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি নকলের কাজে সহায়তা করতে একটি ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহার করছিলেন, যা পরে উদ্ধার করা হয়।
ইশতিয়াকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা আদালতের রায় উল্লেখ করে, নকলের জন্য ব্যবহৃত ডিভাইসটি অপরাধের প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।
যশোর ইসলামিয়া বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বেলাল হোসেন খানকে প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে ধরা পড়ে। কেন্দ্রের সচিব রেজাউল হক জানান, জাহিদ হাসান নামের আসল প্রার্থীর পরিবর্তে বেলাল পরীক্ষা দিচ্ছিলেন এবং নকলের জন্য সহায়তা করছিলেন।
বেলাল হোসেন খানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক রায় দেওয়া হয়নি, তবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিত মামলা দায়েরের পরামর্শ দিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোতে নকলের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি প্রয়োগের জন্য জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষাবিদ ও প্রশাসকরা পরীক্ষার নিরাপত্তা বৃদ্ধি, ক্যামেরা স্থাপন এবং ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার নিষেধের নির্দেশনা দিয়েছেন।
এই ঘটনার পর, জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা জানান, ভবিষ্যতে সকল নিয়োগ পরীক্ষায় কঠোর তদারকি এবং অননুমোদিত উপকরণের ব্যবহার রোধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।
আইনি দিক থেকে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় অনুসারে ইশতিয়াকের শাস্তি ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে, আর বেলাল হোসেন খানের মামলা এখনো আদালতে দাখিলের অপেক্ষায়। উভয় মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে, যা আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নকলের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া দুইজনের পরিবারে শোকের পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সমাজের নেতারা শিক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নৈতিকতা প্রশিক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পর, যশোরের অন্যান্য শিক্ষা কেন্দ্রগুলোও নকলের সম্ভাবনা কমাতে অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করেছে। পরীক্ষার সময় প্রবেশদ্বার ও কক্ষের সীমানা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, নকলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং আইনি প্রক্রিয়ার দ্রুততা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও বিচারিক বিভাগ একত্রে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এই বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা ভবিষ্যতে নকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনের শাসন বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন।



