সিলেটের একটি হোটেলে শুক্রবার ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের নেতৃত্বে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে দেশের শীর্ষ ক্রিকেটারদের সঙ্গে একদল অভিজ্ঞ খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ, টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলের সহ‑অধিনায়ক সাইফ হাসান এবং শামীম হোসেন, সাইফ উদ্দিন, পারভেজ হোসেন ইমন, মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, ইরফান শুক্কুর, সাব্বির রহমান অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বি.সি.বি. পরিচালক এম. নাজমুল ইসলামের তামিম ইকবালের মন্তব্যের প্রতি প্রতিবাদ জানানো এবং দলের নিরাপত্তা ও বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ সংক্রান্ত প্রশ্নের স্পষ্টতা চাওয়া। তামিমের মন্তব্যকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা কোয়াবের দৃষ্টিতে ক্রিকেটের স্বাতন্ত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
মিঠুন স্পষ্ট করে বললেন, বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে ইচ্ছুক এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করলেন, “খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা সম্পূর্ণভাবে ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব”।
কোয়াবের মতে, বিসিবি যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত করা হবে না; বরং তারা তাদের অধিকার রক্ষার জন্য আইনি ও সামাজিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, “রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ক্রিকেটের সঙ্গে মেশানো উচিত নয়, কারণ খেলা আলাদা এবং তা বন্ধ হওয়া উচিত নয়”।
বিসিবি কর্তৃক আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রশ্নেও মিঠুনের স্পষ্ট মতামত প্রকাশ পায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তবে বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপে অংশ নিতে দেওয়া উচিত”।
এই আলোচনার সময়, উপস্থিত খেলোয়াড়দেরও সমর্থন স্পষ্ট হয়। মেহেদি হাসান মিরাজ বলেন, “আমরা সবসময় দেশের গৌরব বাড়াতে প্রস্তুত, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আমাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়বে”। সাইফ হাসান যোগ করেন, “বিশ্বকাপের সুযোগ হাতছাড়া করা আমাদের জন্য বড় ক্ষতি হবে, তাই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য”।
অন্যান্য খেলোয়াড়দের কথাও শোনা যায়। শামীম হোসেন উল্লেখ করেন, “খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হল মাঠে ভালো পারফরম্যান্স দেখানো, রাজনৈতিক চাপ আমাদের লক্ষ্যকে বদলাতে পারে না”। তাইজুল ইসলাম বলেন, “যদি সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড একসাথে কাজ করে, তবে কোনো বাধা আমাদের পথে আসতে পারবে না”।
মিঠুনের মতে, বর্তমান সময়ে ক্রিকেটকে নষ্ট করার কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্বার্থে খেলাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করেন, “এমন কোনো প্রচেষ্টা আমাদের ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও স্বাতন্ত্র্যকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে, তাই আমরা তা রোধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ”।
সম্মেলনের শেষে মিঠুন আবারও বিসিবি-কে আহ্বান জানান, যাতে তারা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব দিক বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি যোগ করেন, “খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে, বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে এবং আমাদের জাতীয় গর্ব বাড়বে”।
কোয়াবের এই অবস্থান স্পষ্ট করে যে, তারা কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে স্বীকার করে না এবং ক্রিকেটকে স্বাধীন রাখার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। মিঠুনের শেষ কথা ছিল, “খেলা বন্ধ হতে পারে না, এবং আমরা তা নিশ্চিত করতে সবকিছু করব”।
এই সংবাদ সম্মেলনটি ক্রিকেটার্সের নিরাপত্তা, বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে বিসিবি কীভাবে এই দাবিগুলোকে সমাধান করবে, তা দেশের ক্রিকেটের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



