কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সন্দেহে বিএনপি নেতাসহ একাধিক ব্যক্তি গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারগুলো শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, পরীক্ষার শুরুর আগে কাজীপাড়া ও খাদ্যগুদামের কাছাকাছি এলাকায় করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযানে সংশ্লিষ্টদের বাড়ি ও আশেপাশে অনুসন্ধান চালানো হয়।
অভিযানের সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ফাঁকা চেকবুক, প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র, চারটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং প্রবেশপত্র জব্দ করা হয়। এছাড়া, অভিযানে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসও বাজেয়াপ্ত করা হয়। জব্দকৃত সামগ্রীগুলো প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে: বাবু ইসলাম (৩২), জান্নাতুন নাঈম মিতু (২৬), শাহজাহান আলী (২৭), আনোয়ার হোসেন (২৮), বেলাল হোসেন (৩৮), মিনারুল ইসলাম (৪০), হিমেল মাহমুদ (২৮), প্রক্সি পরীক্ষার্থী চামেলী আক্তার (২৯), আব্দুল লতিফ (৫২), শরিফুজ্জামান সিদ্দিকী (৪০) এবং মাহবুব খান (৩৫)।
মিনারুল ইসলাম, যিনি বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের বিএনপি যুগ্ম-আহ্বায়ক, তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। তার দলীয় পদ নিশ্চিত করে নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা, যে কোনো সদস্য যদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িত হয়, তবে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে জানান।
পুলিশের মতে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা কাজীপাড়া এলাকায় বাবু ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। ওই বাড়ি থেকে বাবু ইসলাম, জান্নাতুন নাঈম মিতু, শাহজাহান আলী, আনোয়ার হোসেন, বেলাল হোসেন এবং মিনারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় হিমেল মাহমুদ, চামেলী আক্তার, আব্দুল লতিফ, শরিফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং মাইক্রোবাস চালক মাহবুব খান পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে, পুলিশ দ্রুত অনুসরণ করে এবং খাদ্যগুদামের সামনে নাগেশ্বরী‑কুড়িগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কে তাদের থামিয়ে গ্রেপ্তার করে।
নাগেশ্বরী থানার ওয়ানিং কমান্ডার আব্দুল্লা হিল জামান গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এবং কুড়িগ্রাম আদালতে শিকায়ত পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। মামলাটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত অপরাধের ধারা অনুযায়ী চলবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা তদন্তকে ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের জড়িততা, জব্দকৃত সামগ্রী এবং প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মাত্রা নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু করা হয়েছে।
বিএনপি স্থানীয় নেতৃত্বের মন্তব্য অনুযায়ী, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনো অবৈধ কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত সদস্যকে তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করা হবে। ভবিষ্যতে, সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, আদালত থেকে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা করা হবে।



