ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ল্যাবর ওয়ার্ডে নার্সরা গ্যাসের চুলা ব্যবহার করে রোগীর খাবার প্রস্তুত করার ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।
ওয়ার্ডটি মূলত অস্ত্রোপচার কক্ষের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে গর্ভবতী রোগীর ডেলিভারি এবং অন্যান্য জরুরি সেবা প্রদান করা হয়। একই স্থানে চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করতে এবং গরম পানি সরবরাহের জন্য গ্যাসের চুলা স্থাপন করা ছিল।
তবে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা ঐ চুলা ব্যবহার করে নিয়মিত খাবার রান্না করছেন। চুলা থেকে গরম পানি ও গ্যাসের জ্বালানি সরাসরি খাবার প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যপ্রণালীর বাইরে।
এই অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিনজন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান হিসেবে সহকারী পরিচালক মো. জালাল হোসেনকে আহ্বান করা হয়েছে, আর শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয়কে সদস্যসচিব এবং সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট মো. আদনান আহমেদকে সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় শাসনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল ইসলামও বিষয়টি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে কর্মী পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনা আগে থেকে জানতেন না এবং এখন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফেনীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিমও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অপারেশন থিয়েটার একটি সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত এলাকা, যেখানে খাবার প্রস্তুতির জন্য ব্যবহৃত যেকোনো উপকরণ থেকে ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে।
রুবাইয়াতের মতে, রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালকে দ্রুত সংশ্লিষ্ট গ্যাসের চুলা অপসারণ বা ব্যবহার সীমিত করার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কঠোর মানদণ্ড প্রয়োগ করতে হবে।
হাসপাতালের কর্মী ও রোগীর স্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের অনিয়মের সম্ভাব্য ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য। গ্যাসের চুলা থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের অভাব সংক্রমণজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে, যা বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী রোগীর জন্য হুমকি স্বরূপ।
অধিকাংশ রোগী ও তাদের পরিবারকে আশ্বস্ত করা জরুরি যে, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা হবে। রোগীরা যদি কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের রোগী সেবা ডেস্কে জানাতে বলা হচ্ছে।
সাধারণত অপারেশন থিয়েটার ও ল্যাবর ওয়ার্ডে খাবার প্রস্তুতি নিষিদ্ধ, কারণ তাপ, তেল ও ধোঁয়া সরাসরি শ্বাসযন্ত্রের সংবেদনশীল সরঞ্জামকে প্রভাবিত করতে পারে। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুযায়ী, রোগীর খাবার আলাদা রান্নাঘরে বা ক্যাটারিং সেবা দ্বারা সরবরাহ করা হয়।
ফেনী জেনারেল হাসপাতাল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে; পূর্বে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভিযোগ উঠে আসে। এসব সমস্যার সমাধানে প্রশাসন বিভিন্ন কমিটি গঠন করে, তবে এই নতুন ঘটনা নির্দেশ করে যে তদারকি প্রক্রিয়ায় এখনও ফাঁক রয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে, সরকারি ও বেসরকার



