যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প সরকার ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলকে ভারতের কাছে সরবরাহের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন গতিপথের সূচনা নির্দেশ করে। তেল বিক্রয়ের পুরো প্রক্রিয়া ওয়াশিংটনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে রাশিয়ার তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রকাশ করে আসছে। তাই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ করা একটি কূটনৈতিক ও কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি দুই দেশের জ্বালানি সম্পর্ককে পুনর্গঠন করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশীয় শাসন কাঠামোর পরিবর্তনকে তেল বিক্রয়ের নতুন সুযোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার ঘটনা এই প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। এই ঘটনাকে তেল লেনদেনের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস্টোফার রাইট ফক্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন ভেনেজুয়েলার তেলকে বৈশ্বিক বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে তেল বিক্রয়ের আয় সরাসরি কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠী বা প্রাক্তন শাসককে যাবে না।
বিক্রয়ের আয় একটি বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে জমা হবে, যার ব্যবহার ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে সীমাবদ্ধ থাকবে। এই ব্যবস্থা তেলের রপ্তানি থেকে সৃষ্ট অর্থকে স্বচ্ছভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে।
ভারতীয় রিফাইনারিগুলি ঐতিহাসিকভাবে ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণে দক্ষ। তাই এই তেল সরবরাহ দেশীয় জ্বালানি চাহিদা পূরণে বড় সুবিধা এনে দেবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা তেলের বাণিজ্য সীমিত ছিল, তবু ভারত পূর্বে এই তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হিসেবে পরিচিত। এই ঐতিহ্যিক সম্পর্ক নতুন চুক্তিতে পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কেবল ভারত নয়, ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশকেও তেল সরবরাহ করা। এভাবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনা এবং নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।
বিক্রয় প্রক্রিয়াটি একটি বিশেষ কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে, যা সরাসরি ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই কাঠামো তেল রপ্তানি, পেমেন্ট এবং তহবিলের ব্যবহার সবই একসাথে তদারকি করবে।
প্রক্রিয়ার কোনো বিচ্যুতি বা নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার বাইরে তেল পরিবহনের চেষ্টা করা হলে কঠোর শাস্তি আরোপের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের লঙ্ঘন রোধে নজরদারি বাড়াবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয় তবে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে সরবরাহের পরিমাণ বাড়বে, যা মূল্যের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।



