শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় রাতের বেলায় ককটেল তৈরির সময় ঘটিত বিস্ফোরণে দুই তরুণের মৃত্যু এবং তৃতীয়জনের গুরুতর আঘাত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক পদার্থের বিশাল পরিমাণ পরবর্তীতে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকায় ককটেল প্রস্তুতির সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে চিৎকার করে। বিস্ফোরণের তীব্রতা আশেপাশের ঘরবাড়ি ও গাছপালাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে জরুরি সেবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
দুই তরুণের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, আর তৃতীয় ব্যক্তি আহত হয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আহত ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে, চিকিৎসা চলমান। মৃতদের পরিচয় এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে পরিবারগুলো শোকের মধ্যে।
বিস্ফোরণের পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় এবং বিস্ফোরক পদার্থের বড় পরিমাণ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত সামগ্রীতে বিভিন্ন ধরনের স্ফোটনীয় উপাদান ও ককটেল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা পরের দিন বিকেলে উদ্ধারকৃত ককটেল ও বিস্ফোরক পদার্থ নিষ্ক্রিয় করার কাজ সম্পন্ন করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত কর্মী ব্যবহার করা হয়।
বিবেচনায় নিয়ে, জাজিরা থানার উপপরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অধীনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মোট ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অতিরিক্তভাবে, অপরিচিত ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে সম্ভাব্য অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
থানা তদন্তের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক আব্দুস ছালাম জানান, বিস্ফোরণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষ্য গ্রহণের কাজও সমান্তরালে চলছে।
পুলিশের মতে, গ্রেপ্তারকৃত ও সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের জেলখানায় রাখা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
মামলাটি স্থানীয় আদালতে দাখিলের পর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া হবে।
বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অধীনে দায়ী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি, যার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড ও জরিমানা অন্তর্ভুক্ত, হতে পারে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই ধরনের সংবেদনশীল ঘটনার প্রতিবেদন করার সময় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান ও সংবেদনশীলতা বজায় রাখা জরুরি। ঘটনা সংক্রান্ত সকল তথ্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত হবে।



