শুক্রবার বিকালে, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের পরিবারে গিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করেন। মুসাব্বিরের পরিবারকে সরাসরি সাক্ষাৎ করে শোক জানিয়ে তিনি ঘটনাটির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আহমদ জানান, গুলিতে নিহতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরণের হিংসা পেছনে কোনো অ-গণতান্ত্রিক শক্তি লুকিয়ে আছে কিনা তা সম্পূর্ণভাবে অনুসন্ধান করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা গণতন্ত্র ও নির্বাচনের বিরোধিতা করে, তাদের সনাক্ত করা জরুরি এবং তাদের কার্যকলাপের পেছনের সংযোগগুলো উন্মোচন করা হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদারকি বাড়াতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।
আহমদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের সময় কোনো প্রকার বাধা বা হুমকি না থাকে তা নিশ্চিত করা উচিত। তিনি বলেন, এমন হিংসা ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচনকে বিকৃত করার কোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে, কারণ জনগণ স্বেচ্ছায় তা প্রতিহত করবে।
ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারকে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান তিনি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন।
মুসাব্বিরের গুলি করা হয়েছিল গত বুধবার রাতের দিকে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরি পাড়ায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে দ্রুতই রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা সত্ত্বেও, মুসাব্বিরের শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবর স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে শোকের স্রোত নিয়ে আসে।
আজিজুর রহমান মুসাব্বির স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং তার দায়িত্বের মধ্যে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার কাজের মাধ্যমে তিনি বহু মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিলেন।
মুসাব্বিরের মৃত্যুর পর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ে, বিশেষত দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে। সাম্প্রতিক মাসে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কর্মীদের ওপর একাধিক আক্রমণ ঘটার ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
বিএনপি, যা বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল, বারবার সতর্কতা দিয়েছে যে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়লে জনগণ তা স্বীকার করবে না। তারা দাবি করে, কোনো ধরনের হিংসা বা বাধা নির্বাচনের ফলাফলকে পরিবর্তন করতে পারবে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো এই ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি, তবে আহমদ ও তার দলের দাবিগুলো সরকারকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত চালাতে চাপ দিচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে এই দাবি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, তবে বিরোধী দল নিশ্চিত করেছে যে নির্বাচন ভয় ও হিংসার ছায়া ছাড়া সম্পন্ন হবে। সরকারকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে, এটাই তাদের চূড়ান্ত আহ্বান।



