ঢাকা, ৯ জানুয়ারি ২০২৬ – দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা ফাওজুল আজ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, এই বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী অর্ধশতাব্দীর রাজনৈতিক ও সামাজিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ নীতি, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
বছরের শেষের দিকে নির্ধারিত এই সাধারণ নির্বাচনে সংসদীয় আসনগুলো পুনর্বণ্টন হবে, যা সরকার গঠন ও প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন নির্ধারণ করবে। বর্তমান সরকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ শাসন করছে, আর প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি, যার চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
ফাওজুল, যিনি দীর্ঘদিন থেকে শাসক দলের নীতি পরিকল্পনা ও কৌশলগত পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন, তার মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “এই নির্বাচন দেশের আগামী পাঁচ দশকের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে, তাই সকল রাজনৈতিক শক্তির দায়িত্ব হল স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, ফাওজুল আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বলছেন, তিনি আন্তর্জাতিক আইনের ওপর নির্ভর না করে নৈতিকতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে ইচ্ছুক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একই রকম বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “আমার আন্তর্জাতিক আইনের দরকার নেই, নৈতিকতা আছে।” এই মন্তব্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন বিশ্লেষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, এখনো কোনো প্রধান বিরোধী নেতার কাছ থেকে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য বিরোধী দলগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধান শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি শাসক দল শক্তিশালী জয়লাভ করে, তবে বর্তমান উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ এবং সামাজিক কল্যাণ নীতি ধারাবাহিকভাবে চালু থাকবে। অন্যদিকে, যদি বিরোধী জোটের সমর্থন বৃদ্ধি পায়, তবে নীতি পরিবর্তন, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংস্কার ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যেতে পারে। ফলে, নির্বাচনের ফলাফল দেশের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা আপডেট, ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে। কমিশনের মুখপাত্রের মতে, সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ প্রদান এবং ভোটারদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যদিও ফাওজুলের মন্তব্যে আন্তর্জাতিক তদারকি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, ফাওজুলের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তিনি নির্বাচনের গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং নৈতিকতার ওপর জোর দিয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে দেশের পরবর্তী ৫০ বছরকে গঠন করবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে সকল রাজনৈতিক শক্তির দায়িত্ব হল একটি সুষ্ঠু, নির্ভরযোগ্য এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।



