জামালপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সময় ডিভাইস ব্যবহার করার অভিযোগে ৩১ বছর বয়সী সালেমা আক্তারকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। একই সঙ্গে তাকে একশত টাকা জরিমানা আর জরিমানা না পরিশোধ করলে অতিরিক্ত তিন দিন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
সিদ্ধান্তটি জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রের একটি কক্ষে ঘটিত ঘটনাবলীর পর নেওয়া হয়। জামালপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে মামলাটি দ্রুত বিচারাধীন আনা হয়।
ঘটনা ঘটেছে গত শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি বিকালে, যখন পরীক্ষার্থীরা কলেজের নির্ধারিত ঘরে বসে প্রশ্নপত্র সমাধান করছিল। পরীক্ষার মাঝামাঝি সময়ে ডিভাইস ব্যবহার করার সন্দেহ উত্থাপিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে রিপোর্ট করেন, ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করে দ্রুত শাস্তি প্রদান করা হয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনকারী মোট ২৪,৬৭০ জন প্রার্থী ৩৪টি কেন্দ্রে অংশগ্রহণ করছিল। জামালপুরের এই কেন্দ্রের পাশাপাশি অন্যান্য জেলা ও উপজেলায়ও একই রকম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। পরীক্ষার সুষ্ঠুতা রক্ষার জন্য কঠোর নজরদারি চালু ছিল, তবে এই ঘটনাটি পরীক্ষার নীতিমালার লঙ্ঘন হিসেবে ধরা পড়ে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, পরীক্ষার সময় কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করা বাংলাদেশের দণ্ডবিধির অধীনে অপরাধ। জরিমানা না পরিশোধের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তিন দিনের কারাদণ্ড ধার্য করা হয়েছে, যা আইনগত শাস্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
শাস্তি প্রদান করার পর সালেমা আক্তারকে জেলহাজতে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি শাস্তি সম্পন্ন করার জন্য অপেক্ষা করবেন। জেলহাজতে তার অবস্থান ও শর্তাবলী সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে।
প্রতিবাদী পক্ষ থেকে আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে; আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে তিনি শাস্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে বা পরে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারেন। আপিলের পরবর্তী শোনানির তারিখ ও প্রক্রিয়া আদালত থেকে জানানো হবে।
প্রশাসনিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই ধরনের শাস্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে।
সামগ্রিকভাবে, জামালপুরে অনুষ্ঠিত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার করা এক ব্যক্তির ওপর কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা অন্যান্য প্রার্থীদের জন্যও একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে যে পরীক্ষার নীতিমালা লঙ্ঘন করা যাবে না।



