ঢাকার আমিন বাজারের তুরাগ নদীর তলদেশে ট্রলারের নোঙ্গরের আঘাতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি (তিতাস গ্যাস) পরিচালিত গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনার ফলে রাজধানীর গ্যাস সরবরাহে উল্লেখযোগ্য স্বল্পচাপ দেখা দিচ্ছে, যা গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
তিতাস গ্যাসের প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, ট্রলারের নোঙ্গরের আঘাতে পাইপলাইনের বাহ্যিক শিল্ড ভেঙে গ্যাসের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি দ্রুত মেরামত করা হলেও, মেরামতের সময় পাইপলাইনে পানি প্রবেশের ফলে গ্যাসের চাপ আরও হ্রাস পেয়েছে।
মেরামত কাজের সময় পানির অনুপ্রবেশের মূল কারণ হিসেবে পাইপের সংযোগস্থলে অস্থায়ী সিলিংয়ের অপ্রতুলতা উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত ত্রুটি গ্যাসের প্রবাহে অতিরিক্ত বাধা সৃষ্টি করে, ফলে ঢাকা মহানগরীতে গ্যাসের সরবরাহের পরিমাণ কমে যায় এবং স্বল্পচাপের অবস্থা দীর্ঘায়িত হয়।
তিতাস গ্যাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান স্বল্পচাপের অবস্থা সাময়িক এবং দ্রুত সমাধানের জন্য টেকনিক্যাল টিম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি, কোম্পানি দ্রুত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য স্বল্পচাপের ফলে চুলা, হিটার এবং গরম পানির সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শীতকালে গ্যাসের চাহিদা বাড়ে, ফলে স্বল্পচাপের প্রভাব বাড়িয়ে দেয় এবং গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়।
বাণিজ্যিক ও শিল্পখাতে গ্যাসের স্বল্পচাপ উৎপাদনশীলতা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রেস্টুরেন্ট, হোটেল, হাসপাতাল এবং ছোট শিল্প ইউনিটগুলো গ্যাসের বিকল্প হিসেবে লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, যা অতিরিক্ত খরচের কারণ হতে পারে।
এলপিজি বাজারে স্বল্পচাপের ফলে চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম সাময়িকভাবে বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি গ্রাহকদের আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং গ্যাস সরবরাহকারীর জন্য বিকল্প জ্বালানির চাহিদা বাড়ায়।
তিতাস গ্যাসের জন্য স্বল্পচাপের ফলে বিক্রয় আয় হ্রাসের ঝুঁকি রয়েছে। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিলম্বিত পেমেন্ট এবং গ্রাহকের অসন্তোষ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা কোম্পানির শেয়ার মূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দ্রুত মেরামত ও পুনরায় পূর্ণ চাপ নিশ্চিত করা হলে ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা গ্যাস নিরাপত্তা ও সরবরাহের মান বজায় রাখতে তিতাস গ্যাসকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা রোধের জন্য পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন, বিশেষ করে নদীর তলদেশে অবস্থিত অংশগুলোর জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
কোম্পানি এখনো সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি, তবে ত্রুটি সনাক্তকরণ, সিলিং উন্নয়ন এবং রিয়েল-টাইম চাপ পর্যবেক্ষণ সিস্টেমের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই উদ্যোগগুলো গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং বাজারের আস্থাকে পুনরুদ্ধার করতে সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, তুরাগে ট্রলারের আঘাতে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঢাকা শহরে গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে, যা গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক সেক্টরে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। দ্রুত মেরামত, পানি প্রবেশ রোধ এবং উন্নত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ হবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার ঝুঁকি কমাতে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর বাস্তবায়ন অপরিহার্য।



