বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় শুক্রবার দুপুরে একটি ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে ২৫ বছর বয়সী নয়মী বিশ্বাসের মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনাটি খুলনা‑মোংলা রেললাইনের দ্বিগরাজের বিদ্যার বাহন এলাকায় ঘটেছে। রেলপুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার সন্দেহ উঠে এসেছে।
নয়মী বিশ্বাস, মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া গ্রাম থেকে, দিনেশ বিশ্বাসের কন্যা, ট্রেনের পথে দৌড়ে গিয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে যান। ট্রেন চালকের জরুরি ব্রেক প্রয়োগের পরেও তার শারীরিক ক্ষতি অপরিবর্তনীয় ছিল এবং মুহূর্তের মধ্যেই তার প্রাণ ত্যাগ করে। রেলপুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ তুলে নিয়ে তদন্ত চালু করে।
রেল স্টেশন মাস্টার এস.এম. মনির আহমেদ জানান, ট্রেনের চালক দুর্ঘটনা ঘটার মুহূর্তে ব্রেক প্রয়োগ করেন, তবে তরুণী দৌড়ে এসে ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে গেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য কর্মচারী ও যাত্রীদের বিবরণ অনুসারে, কোনো বাহ্যিক ধাক্কা বা যান্ত্রিক ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, নয়মী বিশ্বাসের আত্মহত্যার ইঙ্গিত রয়েছে। রেলপুলিশের মতে, তার দেহের অবস্থান ও দেহে পাওয়া চিহ্নগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়েছেন। তবে রেলপুলিশের তদন্ত এখনও চলমান, এবং সকল প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মৃতদেহের হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রেলপুলিশের তদন্ত বিভাগ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে, মৃতদেহটি পরিবারকে হস্তান্তর করার আগে ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত তথ্য উদ্ভাসিত না হয়।
এই ঘটনার পর রেলপুলিশের উচ্চতর কর্মকর্তারা ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ বিষয়ক অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, রেলপথে অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্ভাবনা কমাতে নিয়মিত নজরদারি ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক ও মানসিক সহায়তা প্রদান করার পরিকল্পনা করছে। পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে, মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে, ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
দ্বিগরাজের বিদ্যার বাহন এলাকায় রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত রেলপুলিশের টহল বাড়ানো হবে। এছাড়া, রেলস্টেশন ও রেলপথের আশেপাশে সাইনেজ ও সতর্কতা চিহ্ন স্থাপন করে যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
রেলপুলিশের তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাধমূলক দিক থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে, রেলপুলিশের তদন্ত দল ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত সব তথ্য, ভিডিও রেকর্ডিং ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর, স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে, সমাজের সকল স্তরে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
রেলপুলিশের শেষ পর্যন্ত তদন্তে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে, তা জনসাধারণের জানাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনার মাধ্যমে রেলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।



