উখিয়া উপজেলা, জালিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাইছড়ি এলাকায় আজ প্রাতঃকালীন পাঁচটায় হিল কাটার কাজের সময় মাটি ধসে ৩০ বছর বয়সী শ্রমিক একজন প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতকে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ নুরুল আমিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইনানি ফরেস্ট রেঞ্জের অফিসার ফিরোজ আল-আমিন জানান, নুরুল আমিন হিল কাটার কাজের সময় মাটির ধসের ফলে গড়িয়ে পড়ে মারা গেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হিল কাটার এবং মাটি বিক্রির কাজটি দীর্ঘদিন ধরে হেলাল উদ্দিন ও তার ছোট ভাই সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে চলছে।
ফিরোজ আল-আমিনের মতে, হেলাল উদ্দিনের উদ্যোগে হিল কাটার কাজটি আজ সকালের প্রথম ভাগে শুরু হয় এবং মাটি ধসে নুরুলকে গড়িয়ে দেয়। একই এলাকায় ২০২৪ সালে অনুরূপ একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল, তখনও হেলাল ও সারওয়ারকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং মামলায় দায়ের করা হয়েছিল।
জালিয়াপালং ফরেস্ট বিটের অফিসার রোকনুজ্জামান জানান, হেলাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে একটি ছোট ট্রাক নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ফরেস্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করে তৎক্ষণাৎ ট্রাকটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
উখিয়া থানা অফিসার ইন-চার্জ নুর আহমেদ জানান, মৃতের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাটির সাথে সম্পর্কিত আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। তিনি উল্লেখ করেন, মৃতের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
হিল কাটার কাজের ফলে পরিবেশগত ক্ষতি এবং মানবিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে বলে স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা হিল কাটার অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, হিল কাটার কাজটি মূলত মাটি বিক্রি এবং নির্মাণ সামগ্রী সংগ্রহের উদ্দেশ্যে করা হয়। তবে এই ধরনের কাজের ফলে মাটির স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে হিল কাটার কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই ঘটনার পর, উখিয়া উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে হিল কাটার কাজের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে সতর্কতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মৃতের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার শোক প্রকাশ করে, একই সঙ্গে হিল কাটার কাজের অবৈধতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের মতে, হিল কাটার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া কোনো কাজ করা আইনত নিষিদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য দায়ী ব্যক্তি আইনি শাস্তি পাবেন।
এই ঘটনাটি হিল কাটার কাজের ঝুঁকি এবং পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ও স্থানীয় জনগণকে একত্রে কাজ করে অবৈধ হিল কাটার কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।



