যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে সাম্প্রতিক সহযোগিতার ফলস্বরূপ দ্বিতীয় পর্যায়ের সামরিক আক্রমণ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলা রাজনৈতিক বন্দীদের বৃহৎ সংখ্যক মুক্তি দিয়ে শান্তি সন্ধানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনীর অপারেশনে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করার পরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ট্রাম্পের টুইটের মাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি বলছেন, এই মুক্তি একটি “খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও বুদ্ধিদীপ্ত” অঙ্গভঙ্গি এবং এটি দুই দেশের মধ্যে তেল ও গ্যাস অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার সূচনা করবে। তিনি যুক্তি দেন, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে বৃহত্তর, আধুনিক এবং দক্ষ জ্বালানি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
সেই অনুযায়ী, ট্রাম্প পূর্বে পরিকল্পিত দ্বিতীয় আক্রমণকে আর প্রয়োজনীয় না বলে ঘোষণা করেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে সব জাহাজ এখনো তাদের অবস্থানে থাকবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্ভাবনা কমে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখার ইঙ্গিতও রয়েছে।
একই দিন, ট্রাম্প ফক্স নিউজের “হ্যানিটি” শোতে একটি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন যে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে আসবেন। পূর্বে তিনি মাচাদোর সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা অস্বীকার করলেও, এখন তিনি এই সফরের সম্ভাবনা স্বীকার করেছেন, যদিও তিনি দেশের অভ্যন্তরে তার সমর্থন ও সম্মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
বুধবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে কথোপকথনে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগের দায়িত্বে আছেন কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ, যিনি অস্থায়ীভাবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছেন। এই মন্তব্যটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের নতুন পর্যায়ের ইঙ্গিত দেয়।
ফক্স সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, তিনি শুক্রবার হোয়াইট হাউসে তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলি ভেনেজুয়েলায় কমপক্ষে একশো বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এই তথ্যটি তার টুইটেও পুনরায় উল্লেখ করা হয়, যা তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে বৃহৎ আর্থিক সহায়তার সংকেত দেয়।
ভেনেজুয়েলা সরকার এই মুক্তি উদ্যোগকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। সরকারী মুখপাত্রের মতে, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেশের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা কমাতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, তেল ও গ্যাস অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরণের কূটনৈতিক অগ্রগতি উভয় দেশের জন্য কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদে প্রবেশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, আর ভেনেজুয়েলার জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব হবে। তবে উভয় পক্ষেরই সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো অস্থায়ী সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে রূপান্তরিত না হয়।
ভবিষ্যতে, ট্রাম্পের ঘোষিত তেল বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দুটোই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়বে, যা উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে প্রভাব ফেলবে। এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং কী ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।



