বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) এর স্থায়ী কমিটি আগামী রাত ৯:৩০ টায় গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক করতে যাচ্ছে, যেখানে দলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চেয়ারপার্সন হিসেবে নির্বাচন করা হতে পারে।
বিএনপির সিনিয়র নেতা জানান, এই বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত সূচিতে নেই এবং কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা প্রকাশ করা হয়নি, তবে দলীয় নেতৃত্বের পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকের ফলাফল দলীয় গঠনকে সরাসরি প্রভাবিত করবে; যদি তারেক রহমানকে চেয়ারপার্সন হিসেবে নিশ্চিত করা হয়, তবে তিনি ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবাসে গিয়ে তারেককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করার পর থেকে এই পদে অধিষ্ঠিত হবেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ইতিমধ্যে তারেকের চেয়ারপার্সন নির্বাচনের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, দু’এক দিনের মধ্যেই দলীয় শীর্ষ পদে তারেকের নাম উঠে আসবে।
খালেদা জিয়া, যিনি ২০১৮ সালে কারাবাসে গিয়ে তারেককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন, ৩০ ডিসেম্বরের মৃত্যুর মাধ্যমে চেয়ারপার্সনের শূন্যতা সৃষ্টি করেন। তার মৃত্যুর পর থেকে দলটি নতুন চেয়ারপার্সনের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেনি।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, আজকের বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পুনর্গঠন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যা পার্টির সংগঠন ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিরোধী দলগুলো এই পরিবর্তনকে দলের ঐতিহ্যবাহী নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে, এবং তা দেশের রাজনৈতিক সমতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নতুন চেয়ারপার্সনের নির্বাচন পার্টির গঠনগত সমস্যাগুলি সমাধান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটার ভিত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অন্যদিকে, দলের কিছু সদস্যের মধ্যে নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে মতবিরোধের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে, বিশেষত সরকার-বিপক্ষ সম্পর্ক এবং নীতি আলোচনায় প্রভাব ফেলবে।
বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, যদি তারেক রহমানকে চেয়ারপার্সন হিসেবে নিশ্চিত করা হয়, তবে তিনি শীঘ্রই পার্টির মূল নীতি ও নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো প্রস্তুত করার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপির এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেশের রাজনৈতিক সমতা, দলীয় সংহতি এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।
বৈঠকের আগে গুলশানের পার্টি কার্যালয়ের সামনে কিছু সমর্থক একত্রিত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে উপস্থিত ছিলেন, যারা নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা প্রকাশ করে স্লোগান শোনাতে শোনাতে অপেক্ষা করছিলেন।
বিএনপি কর্তৃপক্ষের মতে, বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর দলীয় সদস্য ও সমর্থকদের সঙ্গে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে, যাতে নতুন চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব ও পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।



