ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের নেতৃত্বে ৯ জানুয়ারি কমলা ও চাঁদপুরে দুইটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় কর্মশালায় ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ প্রকল্পের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হয় এবং উদ্যোক্তাদের ভূমিকা কীভাবে সেবার গতি বাড়াবে তা আলোচনা করা হয়।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উল্লেখ করেন, সরকার নাগরিকদের সরকারি সেবায় প্রবেশ সহজ করতে এবং দীর্ঘদিনের অস্বস্তি দূর করতে চায়। এই লক্ষ্যে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ একটি সমন্বিত সংস্কার উদ্যোগ, যেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সেবা এক ছাদের নিচে একত্রিত হবে। ফলে সেবার মান ও দক্ষতা উভয়ই উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
কমলা জেলার সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রথম কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান। সেখানে কমলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোট ১০০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। একই দিন চাঁদপুরের উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দ্বিতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার। চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার আরেকটি ১০০ জন উদ্যোক্তা এখানে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্যোক্তাদের ভূমিকা নিয়ে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, স্থানীয় নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো সরকারী সেবার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রকাশের মঞ্চ হবে। উদ্যোক্তারা এই কেন্দ্রগুলোতে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সেবার গুণমান ও গ্রাহকের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করবেন। তিনি জোর দেন, সেবা গ্রহণের সহজতা ও হেয়ারফ্রি প্রক্রিয়া নাগরিকের সরকারের প্রতি আস্থা বাড়াবে।
ডেটা সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার গুরুত্বও কর্মশালায় আলোকপাত করা হয়। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নাগরিক যখন নিরাপদ ও স্বচ্ছ সেবা পান, তখনই তাদের আস্থা স্থায়ী হয়। তাই সরকার, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সকলেই তথ্য সুরক্ষায় সচেতন থাকতে হবে।
কর্মশালার বিশেষ অতিথি হিসেবে আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. নবীর উদ্দীন এবং এন্টারপ্রাইজ টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন (এটিইউআই) এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি প্রযুক্তিগত দিক থেকে সেবা কেন্দ্রের কার্যকারিতা বাড়াতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নির্দেশ করে।
এই কর্মশালাগুলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (আইসিটি বিভাগ) এর উদ্যোগে পরিচালিত হয়। বিভাগটি ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন স্তরে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণ সেশন চালু করেছে। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, সেবা মানদণ্ড নির্ধারণ এবং ডেটা সুরক্ষা নীতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেবা কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় ব্যবসায়িক জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সমাধান সংযোজিত হবে বলে আশা করা যায়। একত্রে কাজ করলে সেবা প্রদান প্রক্রিয়া দ্রুত হবে, গ্রাহকের অপেক্ষার সময় কমবে এবং সেবার গুণগত মান বাড়বে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের মতে, ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ প্রকল্পের সফলতা নির্ভর করে কেবল অবকাঠামো নয়, বরং সেবার ব্যবহারকারী ও প্রদানকারীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর। তাই উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়, ডেটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেবা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা অপরিহার্য।
কমলা ও চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত এই দুই কর্মশালা, সরকারী সেবা সংস্কারকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এক ছাদের অধীনে সমন্বিত সেবা প্রদান, নাগরিকের জীবনকে সহজতর করবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে নতুন দিক উন্মোচন করবে।



