ভ্যাটিকান সিটি থেকে শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, পোপ ফ্রান্সিস ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজা অঞ্চলে বাড়তে থাকা সহিংসতা ও মানবিক সংকটের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বার্তা প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে শান্তি ও নিরাপত্তার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান।
পোপের বিবৃতিতে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর অব্যাহত হামলার ফলে সৃষ্ট দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মানবিক ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে পোপের মন্তব্যেও একই রকম তীব্রতা দেখা যায়। তিনি গাজা অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কঠিন অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে, দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এই আহ্বানটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বহু দেশ ও সংস্থা গাজার মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
পোপ ফ্রান্সিস ২০১৩ সালে পোপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার বার্তায় ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে সার্বভৌমত্বের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনরায় উত্থাপিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তি কেবল যুদ্ধের অনুপস্থিতি নয়, বরং প্রতিটি জাতি তার নিজস্ব ভূমিতে ন্যায়বিচার ও মর্যাদা পায় তা নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকরা পোপের এই মন্তব্যকে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মূল্যায়ন করছেন। একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, পোপের নৈতিক ও নীতিগত সমর্থন ফিলিস্তিনিদের আন্তর্জাতিক স্তরে ন্যায়বিচার অর্জনের জন্য একটি নৈতিক ভিত্তি সরবরাহ করতে পারে। তদুপরি, পোপের আহ্বানটি সংঘাতের উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দিকে ধাবিত করার সম্ভাবনা বাড়ায়।
পোপের বার্তায় সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সহিংসতা পরিহার করে সংলাপের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি মানবিক সহমর্মিতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা সমাধান করা সম্ভব বলে বিশ্বাস প্রকাশ করেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সংযুক্ত জাতিসমূহ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা নিয়মিত শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
পোপের এই প্রকাশনা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে এবং ফিলিস্তিনি অধিকার সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তার বার্তা বিশেষ করে মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যা গাজার বর্তমান সংকটের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সারসংক্ষেপে, পোপ ফ্রান্সিসের এই বার্তা ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জীবনের অধিকারকে পুনরায় জোরদার করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই অধিকার রক্ষায় সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। তার নৈতিক নেতৃত্ব এবং শান্তি ও ন্যায়বিচারের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাধানে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করতে পারে।



