28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্র থাইল্যান্ড‑কম্বোডিয়া সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে ৪৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্র থাইল্যান্ড‑কম্বোডিয়া সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে ৪৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্র থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি শক্তিশালী করতে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। এই সিদ্ধান্তটি কাতার ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আল‑জাজিরা শুক্রবার জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পূর্ব এশিয়া বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা মাইকেল ডেসোমব্রে এই সপ্তাহে উভয় দেশের রাজধানীতে সফর করছেন, যেখানে তিনি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে তার বিদেশ নীতির একটি সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করতে চান।

ডেসোমব্রে উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াকে মাদক পাচার ও সাইবার প্রতারণা দমন করার জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করবে। এই দুইটি অপরাধ উভয় দেশের নিরাপত্তা সংস্থার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

অতিরিক্তভাবে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে স্থানচ্যুত হওয়া জনগণের সহায়তার জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং সীমান্তে বিস্তৃত মাইন অপসারণ প্রকল্পের জন্য আর ১০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হবে। এই তহবিলগুলোকে যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন ও মানবিক সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই আর্থিক সহায়তা কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সরকারের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখবে। চুক্তিটি ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মালয়েশিয়ায় স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যেখানে ট্রাম্প এশিয়ান অঞ্চলের শীর্ষ নেতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

দুই দেশের মধ্যে তিন সপ্তাহের তীব্র লড়াইয়ের পর ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪-এ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো হয়। তবে গত মাসে আবার সীমান্তে বড় ধরনের সংঘর্ষে কম্বোডিয়ার আর্টিলারির গুলিতে থাই সৈন্য আহত হন, যা ব্যাংকক কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। কম্বোডিয়া পরবর্তীতে বলেছে, ঘটনাটি অপারেশনাল ভুলের ফলে ঘটেছে এবং তা ইচ্ছাকৃত নয়।

কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডকে সীমান্তের কিছু এলাকা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করতে আহ্বান জানিয়েছে; এই অঞ্চলগুলোকে স্থানীয়ভাবে “নোম পেন” বলে দাবি করা হয়। উভয় দেশের মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি উপনিবেশিক সময়ের চুক্তির ওপর ভিত্তি করে বিরোধের মূল কারণ।

এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা কেবল মানবিক সংকট সমাধানেই নয়, মাদক ও সাইবার অপরাধের নেটওয়ার্ককে দুর্বল করার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে লক্ষ্য রাখে। তারা আরও উল্লেখ করেন, থাইল্যান্ড‑কম্বোডিয়া সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এশিয়ান অঞ্চলের বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্প এই সংঘর্ষকে তার সমাধান করা একাধিক যুদ্ধের মধ্যে একটি হিসেবে উল্লেখ করে, এবং তার ভূমিকা নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্যতা অর্জন করেছে এমন দাবি করেন। যদিও এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া পেয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আর্থিক সম্পৃক্ততা অঞ্চলীয় কূটনীতিতে নতুন গতিপথ তৈরি করেছে।

আসন্ন সপ্তাহে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া যৌথ সীমান্ত কমিটি একটি বৈঠক নির্ধারণ করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবে। এই বৈঠকটি যুদ্ধবিরতির কার্যকরী পর্যবেক্ষণ, মাইন অপসারণের অগ্রগতি এবং মানবিক সহায়তার বণ্টন নিয়ে আলোচনা করবে। বিশ্লেষকরা আশা করেন, এই ধাপটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি বজায় রাখতে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা থাইল্যান্ড‑কম্বোডিয়া সীমান্তে চলমান সংঘাতের সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে উভয় দেশের রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি, স্থানীয় সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments