20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাসালমা খাতুনের শোকের মাঝেও সরকারি শিক্ষক লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

সালমা খাতুনের শোকের মাঝেও সরকারি শিক্ষক লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়, কোদালিয়া গ্রাম, চৌহালী উপজেলার বাসিন্দা সালমা খাতুনের বাবার মৃত্যুর খবর জানার পরেও তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষার কেন্দ্রের দিকে গিয়ে তিনি দুপুরের একটায় এই দুঃখজনক সংবাদ পান এবং শোকের মধ্যে নিজের দায়িত্ব সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন।

সালমা খাতুন আব্দুস সামাদ মুন্সির কন্যা, যিনি চৌহালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পরিবারে ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট এবং তার বাবা-দাদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। বহু বছর ধরে বয়সজনিত কারণে বাবার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছিল, তবে তিনি পরিবারের জন্য সবসময় সমর্থনকারী ছিলেন।

ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে, কামারখন্দের মাদ্রাসা কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য সালমা তার স্বামী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে একসাথে গমন করেন। পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী, প্রার্থীরা দুপুরের একটায় কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়। তিনি এবং তার স্বামী একই গ্রাম থেকে আসা অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অপেক্ষা করছিলেন।

প্রায় দুপুরের একটায়, পরীক্ষার হলের পাশে বসে থাকা সময়ে, সালমা হঠাৎ তার বাবার মৃত্যুর খবর পান। এই সংবাদটি জানার সঙ্গে সঙ্গে তিনি শোকের অশ্রুতে ভেজে যান এবং এক মুহূর্তে কাঁদতে শুরু করেন। তার স্বামী এবং কাছাকাছি থাকা অন্যান্য পরীক্ষার্থীরা তৎক্ষণাৎ তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাকে আলতো করে হাত ধরেন এবং কিছুক্ষণ কথা বলেন।

শোকের মাঝেও, সালমা কিছু সময়ের পর সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। তার স্বামী আলমগীর হোসেন জানান, তিনি পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তান এবং বাবার সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল; তাই শোকের পরেও তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করতে চেয়েছেন। তিনি নিজের কন্যা সন্তানকে কোলে নিয়ে, শোকের স্রোতকে সামলিয়ে, শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার কাগজে হাত রাখেন।

কামারখন্দের ছয়টি কেন্দ্রে এই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের লিখিত মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের বিষয়বস্তু এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি পূর্বে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থীর জন্য সমান শর্তে মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়।

আলমগীর হোসেন আরও উল্লেখ করেন যে সালমা তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট, এবং তার বাবা দীর্ঘ সময়ের অসুস্থতা থেকে ভুগছিলেন। বাবার মৃত্যুর পরেও তিনি শোককে সামলিয়ে, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য এই সুযোগটি ব্যবহার করতে চেয়েছেন। তার এই দৃঢ়তা পরিবার ও সমাজের জন্য একটি উদাহরণস্বরূপ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপাশা হোসাইন জানান, বাবার মৃত্যুজনিত কারণে পরীক্ষার্থী সালমাকে কোনো বিশেষ সুবিধা প্রদান করা সম্ভব নয়, কারণ নিয়ম অনুযায়ী সকল প্রার্থীর জন্য সমান শর্ত বজায় রাখা হয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, পরীক্ষার পরপরই প্রার্থীদের মানসিক সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

শিক্ষা সংক্রান্ত পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত ব্যক্তিগত দুর্যোগের মুখোমুখি হলে, প্রার্থীদের মানসিক সমর্থন ও সময়মত তথ্য প্রদান গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার আগে জরুরি যোগাযোগের নম্বর সংরক্ষণ করা, এবং শোকের সময় সহায়তা চাওয়া উচিত। এছাড়া, পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগে পরিবারিক জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করা ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়ক হতে পারে।

এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যায়, ব্যক্তিগত শোকের মাঝেও শিক্ষার প্রতি দায়িত্ববোধ এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে, শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সেবা এবং জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments