মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৯ জানুয়ারি ফক্স নিউজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মেক্সিকোর মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে স্থল আক্রমণ চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি যুক্তি দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি মেক্সিকোর অভ্যন্তরে সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মাদক পাচার বন্ধ করতে সক্ষম হবে।
ট্রাম্পের মতে, তার প্রশাসন ইতিমধ্যে জলপথে মাদক পাচারের প্রায় ৯৭ শতাংশ বন্ধ করতে সফল হয়েছে। এখন তিনি মেক্সিকোর সীমান্ত অতিক্রম করে কার্টেলদের মূল গড়ে আঘাত হানার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই পদক্ষেপকে তিনি মেক্সিকোর নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমান সময়ে মেক্সিকো সরকার নয়, বরং শক্তিশালী মাদক কার্টেলগুলোই দেশের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং তা মোকাবিলায় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম তীব্রভাবে ট্রাম্পের ঘোষণার বিরোধিতা করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে মেক্সিকোর ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি সামরিক আক্রমণ অনুমোদিত হবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেবেন।
শেইনবাউমের বক্তব্যে তিনি মেক্সিকোর স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি যুক্তি দেন যে একতরফা সিদ্ধান্তে মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোকে হস্তক্ষেপ করা আন্তর্জাতিক নীতির লঙ্ঘন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি করবে।
গত বছর সেপ্টেম্বর দুই দেশ মাদক পাচার বিরোধে যৌথ কাজের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। সেই চুক্তি অনুসারে উভয় সরকার সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণ ও গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই চুক্তিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক ইতিমধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ট্রাম্পের নতুন আক্রমণ পরিকল্পনা উভয় দেশের কূটনৈতিক সংলাপকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে এবং পূর্বে গড়ে তোলা সহযোগিতার ভিত্তি ক্ষয় করতে পারে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মাদকবিরোধী নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করছেন। তিনি ক্যারিবীয় সাগরে চালানো একটি সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল যে ওই নৌযানগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
তবে, সেই অভিযানের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ জনসাধারণের সামনে উপস্থাপিত হয়নি। ট্রাম্পের প্রশাসন এখনও কোনো দৃঢ় প্রমাণ প্রকাশ করেনি যা অভিযানের বৈধতা নিশ্চিত করে। এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক অভিযানের পর চীন, রাশিয়া এবং ইউরোপের কিছু দেশ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ট্রাম্প এসব অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তার অমনোযোগ প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা প্রকাশ করে বলেছেন যে মেক্সিকোর ভূখণ্ডে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ উত্তর আমেরিকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তারা সম্ভাব্য সংঘাতের ফলে উভয় দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নির্ধারণ করবে। উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরি করা এবং চুক্তির শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা করা সমাধানের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।



