28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাট্রাকের ধাক্কা ও পানির প্রবেশে তুরাগ নদীর গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত, রাজধানীতে গ্যাস...

ট্রাকের ধাক্কা ও পানির প্রবেশে তুরাগ নদীর গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত, রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র

ঢাকার তুরাগ নদীর তলদেশে অবস্থিত গ্যাস বিতরণ পাইপলাইন, মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামতকালে পানির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। ফলে গ্যাসের চাপ কমে গিয়েছে এবং রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার, এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করে গ্যাসের চাপ হ্রাসের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়।

তিতাস গ্যাসের তথ্য অনুযায়ী, নোঙরের আঘাতে আমিনবাজারের নিকটবর্তী তুরাগ নদীর তলদেশে অবস্থিত প্রধান বিতরণ পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পানি ঢুকে গ্যাসের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, তাই গ্যাসের চাপ কমিয়ে মেরামত কাজ চালু করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি গ্যাসের লিকেজ রোধে জরুরি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

মেরামত কাজের সূচনা থেকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গাবতলী, আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, বসিলা, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সরবরাহে উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা যায়। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে গ্যাসের ঘাটতি বাড়ে, ফলে বাসিন্দাদের দৈনন্দিন রন্ধন ও গৃহস্থালি কাজকর্মে অসুবিধা হয়।

মোহাম্মদপুরের এক বাসিন্দা জানান, রাতের সময় সামান্য গ্যাস থাকলেও পুরো দিন চুলায় গ্যাস না থাকায় খাবার বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হয়েছেন। ধানমন্ডির আরেকজন বাসিন্দা উল্লেখ করেন, গ্যাস না থাকায় ইলেকট্রিক চুলায় রাঁধতে হয়েছে, যা বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দেয়। এ ধরনের পরিস্থিতি গ্রাহকদের আর্থিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে।

বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, গ্যাস সরবরাহের এই অস্থায়ী ঘাটতি তিতাস গ্যাসের বিক্রয় আয়কে প্রভাবিত করতে পারে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বাণিজ্যিক ও শিল্পিক ব্যবহারকারীর উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়, ফলে স্বল্পমেয়াদে শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। এছাড়া গৃহস্থালি গ্রাহকদের বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার বাড়ার ফলে তিতাস গ্যাসের গ্রাহক সন্তুষ্টি সূচকেও প্রভাবিত হতে পারে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, সমস্যার সমাধানে কাজ চলমান এবং গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মেরামত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রযুক্তিগত দলকে অতিরিক্ত শিফটে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গৃহস্থালি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির চাহিদা বাড়তে পারে, যা সিলিন্ডার বিক্রেতা ও ডেলিভারি সেবার ওপর স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা পুনরুদ্ধার না হলে গ্রাহকরা বিকল্প জ্বালানি, যেমন ইলেকট্রিক চুলা বা সোলার হিটার, গ্রহণের দিকে ঝুঁকতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, গ্যাস সরবরাহের এই ধরণের বিঘ্ন শহরের গৃহস্থালি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ব্যয় কাঠামোতে অস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। গ্যাসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সরবরাহের ঘাটতি গ্রাহকদের বিকল্প জ্বালানির দামের তুলনায় উচ্চতর ব্যয় বহন করতে বাধ্য করতে পারে, যা ভোক্তা মূল্যসূচকে প্রভাব ফেলতে পারে।

তিতাস গ্যাসের জন্য এই ঘটনা একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়। পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে নগর এলাকায় ট্রাফিকের ঘনত্ব ও ভারী ট্রাকের চলাচলকে বিবেচনা করে, পাইপলাইন রুটের সুরক্ষা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।

সরকারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নীতি সমর্থন বাড়াতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাকের নোঙর ব্যবহারের নিয়ম কঠোর করা, পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন করা সম্ভাব্য পদক্ষেপ। এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

সংক্ষেপে, তুরাগ নদীর গ্যাস পাইপলাইনের ক্ষতি ও পানির অনুপ্রবেশের ফলে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। তিতাস গ্যাস দ্রুত মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব এবং ব্যবসায়িক খাতে সম্ভাব্য ক্ষতি স্পষ্ট। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার ঝুঁকি কমাতে অবকাঠামো নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নীতি শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments