বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ শ্রুতি হাসান সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি টেলেগু ভাষার প্রথম সত্যিকারের অপরাধ ডকুমেন্টারি ‘সাইলেন্ট স্ক্রিমস: দ্য লস্ট গার্লস অফ তেলেঙ্গানা’ এর ট্রেইলারের বর্ণনায় নিজের কণ্ঠ যুক্ত করেছেন। এই ডকুমেন্টারি বর্তমানে শুধুমাত্র Sun NXT-তে স্ট্রিমিং উপলব্ধ।
‘সাইলেন্ট স্ক্রিমস’ তেলেঙ্গানার এমন কিছু নারীর কাহিনী তুলে ধরে, যাদের গল্প দীর্ঘদিন অদৃশ্য ও অবহেলিত ছিল। প্রকল্পটি সত্যিকারের অপরাধের বিশ্লেষণ করে, সমাজের নজরে না আসা কষ্টদায়ক ঘটনা উন্মোচন করতে চায়। টেলেগু ভাষায় প্রথমবারের মতো এই ধরণের ডকুমেন্টারি তৈরি হওয়ায় এটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
শ্রুতি হাসান ট্রেইলারের জন্য কণ্ঠ রেকর্ড করার পর তা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন। তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন যে, এই কাজটি তার জন্য গর্বের বিষয় এবং এটি এমন একটি গল্প যা শোনার অধিকার প্রত্যেকের আছে। তার পোস্টে ডকুমেন্টারির শিরোনাম ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময় তিনি যে দায়িত্ববোধ অনুভব করেছেন, তা তিনি প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই কাহিনীগুলো শোনার পর তার মনে গভীর দায়িত্বের অনুভূতি জাগ্রত হয় এবং তিনি এগুলোকে জনসাধারণের সামনে আনতে চান। তিনি জোর দেন, এই গল্পগুলো কেবল অতীতের ঘটনা নয়, বরং আজও চলমান সমস্যার প্রতিফলন।
ডকুমেন্টারিটি তেলেঙ্গানার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটিত নারীর নিপীড়ন ও হিংসার ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি। এসব কাহিনী সাধারণ মানুষের কাছে অজানা থাকলেও, সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ডকুমেন্টারির মাধ্যমে এই নারীদের কণ্ঠকে শোনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সমাজে পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।
ট্রেইলার রেকর্ডিংয়ের আগে নির্মাতারা একটি ব্যাকস্টেজ ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে শ্রুতি হাসানকে ডাবিং স্টুডিওতে কাজ করতে দেখা যায়। ভিডিওটি তার পেশাদারিত্ব ও মনোযোগের মুহূর্তগুলো ধারণ করে, যা দর্শকদের প্রকল্পের প্রতি তার নিষ্ঠা বুঝতে সাহায্য করে। এই দৃশ্যগুলোতে তার কণ্ঠের গুণগত মানও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
ডকুমেন্টারির নির্মাণ দল এই সুযোগে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তারা উল্লেখ করে, তার কণ্ঠ ও দৃষ্টিভঙ্গি ডকুমেন্টারিতে নতুন একটি আবেগময় স্তর যোগ করেছে। এছাড়া, 7Hz স্টুডিওর সমর্থন ও রেকর্ডিং সুবিধা প্রদানকেও তারা প্রশংসা করে।
শ্রুতি হাসানের কণ্ঠ ডকুমেন্টারির গল্পকে আরও প্রভাবশালী করে তুলেছে, যা শোনার মাধ্যমে শিকার নারীদের কণ্ঠকে দূরদূরান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করবে। তার অংশগ্রহণের ফলে ডকুমেন্টারির সামাজিক প্রভাব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেলিব্রিটি ও সামাজিক বিষয়ের সংযোগে এই ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব বাড়ছে। জনসাধারণের দৃষ্টিতে আলোচনার বিষয়গুলোকে তুলে ধরতে তার মতো পরিচিত ব্যক্তির অংশগ্রহণ বিশেষ ভূমিকা রাখে। এভাবে মিডিয়া ও বিনোদন শিল্পের মাধ্যমে সামাজিক সমস্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হয়।
ডকুমেন্টারিটি প্রকাশের পর দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। Sun NXT-তে স্ট্রিমিং শুরু হওয়ার পর বেশ কিছু দর্শক এই প্রকল্পের গভীরতা ও গুরুত্বের প্রশংসা করেছেন। তাদের মন্তব্যে ডকুমেন্টারির বিষয়বস্তু ও শ্রুতি হাসানের কণ্ঠের প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রকল্পটি সমাজে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। শোনার মাধ্যমে এই কাহিনীগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সমাধানের পথ খোঁজা এখনই জরুরি। ডকুমেন্টারির মাধ্যমে এই বিষয়গুলোকে অব্যাহতভাবে আলোচনার মঞ্চে রাখা উচিত।
‘সাইলেন্ট স্ক্রিমস: দ্য লস্ট গার্লস অফ তেলেঙ্গানা’ এখনো Sun NXT-তে স্ট্রিমিং চলছে এবং দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত। শ্রুতি হাসানের কণ্ঠের মাধ্যমে এই গল্পগুলো আরও বিস্তৃত শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাবে, যা সমাজে পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।



