ইরানে সরকারবিরোধী প্রতিবাদ তীব্রতর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রেজা পাহলভির সঙ্গে কোনো বৈঠক না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য হিউ হিউইট শো পডকাস্টে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে শোনা গেছে, যেখানে তিনি ইরানের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সমর্থন না করার ইঙ্গিত দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নেতৃত্বের নির্বাচন শেষ পর্যন্ত ইরানিরাই করতে পারবেন।
ট্রাম্পের মতে, রেজা পাহলভি একজন ভালো মানুষ হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সঙ্গে বৈঠক করা উপযুক্ত নয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে স্পষ্ট করে বলেন যে, শাসনক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য এখন কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দেওয়া সম্ভব নয়। এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট হয় যে, ওয়াশিংটন ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গঠনে হস্তক্ষেপের সীমা নির্ধারণে সতর্ক।
রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর ইরানের শেষ শাহের সন্তান হিসেবে নির্বাসিত হন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য পরিচিত এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করার প্রস্তাবও দিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান থেকে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র এখনই তার প্রস্তাবকে সমর্থন দিচ্ছে না।
ইন্টারনেট পরিষেবার ব্যাপক বন্ধের ফলে ইরানের নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছে, যা প্রতিবাদকারীদের সংগঠন ও তথ্যের প্রবাহকে কঠিন করে তুলেছে। এই পদক্ষেপের ফলে সামাজিক মিডিয়ায় তথ্যের প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।
ইরানের বর্তমান অস্থিরতার মূল কারণ চরম অর্থনৈতিক সংকট। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে রিয়ালের মান দ্রুত হ্রাস পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে ক্ষয় করেছে। মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও দামের দ্রুত বৃদ্ধি জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। এই অর্থনৈতিক চাপই মূলত প্রতিবাদের সূত্রপাতের প্রধান কারণ।
প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক দাবির ওপর কেন্দ্রীভূত প্রতিবাদ দ্রুতই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে। নাগরিকরা শুধু মুদ্রা ও দামের সমস্যাই নয়, শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়েও দাবি তুলেছেন। প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় নেমে সরকারের নীতিমালার সমালোচনা করছেন এবং পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট না হওয়া সমর্থন ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গঠনে নতুন জটিলতা যোগ করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। একই সঙ্গে, ইরানিরা নিজেদের নেতৃত্বের নির্বাচনকে স্বাধীনভাবে সম্পন্ন করার দাবি জোরদার করছে।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে। অর্থনৈতিক সংকট, ইন্টারনেট বন্ধ এবং সরকারবিরোধী প্রতিবাদ একসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতার মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ সমর্থন সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকায় ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং ইরানের জনগণই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত ও ইরানের অভ্যন্তরীণ গতিবিধি কিভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করবে তা সময়ই প্রকাশ করবে। বর্তমান সময়ে ইরানের জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ গঠনের প্রধান ভূমিকা পালন করছে।



