ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক ভ্রমণ সহজ করার জন্য বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। এ অনুরোধের পটভূমি হল সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, যার ফলে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা পেতে $5,000 থেকে $15,000 পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হয়।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) জেমিসন গ্রীরের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকটি বৃহস্পতিবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আলোচনা করা হয়েছে।
খলিলুরের সফর পাঁচ দিনের ছিল, যার মধ্যে তিনি সহকারী USTR ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে আলাদা একটি বৈঠকও করেছেন। উভয় বৈঠকে বাংলাদেশকে ভিসা বন্ডের শর্ত হ্রাসের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন আর্থিক সংস্থা (DFC) থেকে বেসরকারি খাতের জন্য তহবিলের প্রবেশাধিকার চাওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে বিদেশি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ‘অনুতাপজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণ কঠিন হয়ে পড়বে, বিশেষত সেই ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের জন্য যাঁদের নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রে সফর প্রয়োজন।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ২০ শতাংশের সমান রিসিপ্রোকাল শুল্ক আরোপ করে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর চেষ্টা করেছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে $8.37 বিলিয়ন মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে, আর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে $2.21 বিলিয়ন মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যসম্ভারকে আরও বিস্তৃত করেছে; গম, তুলা, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) ইত্যাদি নতুন পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বয়িং এয়ারক্রাফ্ট ক্রয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক সম্পর্কের আলোকে, খলিলুর গ্রীরকে ব্যবসায়িক ভ্রমণ সহজ করার পাশাপাশি DFC তহবিলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন।
বাংলাদেশের শ্রম বাজারে সাম্প্রতিক সংস্কারকে উল্লেখ করে, উপদেষ্টা যুক্তি দেন যে এই সংস্কারগুলো বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সহায়ক এবং তাই DFC তহবিলের ব্যবহারযোগ্যতা বাড়ানো উচিত। গ্রীর এই অনুরোধের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে জানান যে তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে যথাসাধ্য প্রচেষ্টা করবেন।
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও সম্প্রসারণের জন্য ভিসা নীতি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়গুলো সমাধান করা জরুরি বলে উভয় পক্ষই একমত হয়। ভবিষ্যতে এই আলোচনার ফলাফল কিভাবে বাস্তবায়িত হবে তা নির্ভর করবে উভয় দেশের কূটনৈতিক সমন্বয় ও নীতি নির্ধারণের উপর।
এই বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, উভয় পক্ষের মধ্যে আরও উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে ভিসা বন্ডের শর্ত হ্রাস, DFC তহবিলের প্রবেশাধিকার এবং বাণিজ্যিক শুল্ক কাঠামোর পুনর্বিবেচনা করা যায়। শেষ পর্যন্ত, এই উদ্যোগগুলো বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখে।



