ময়মনসিংহ শহরের শিববাড়ি মন্দিরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ৯ জানুয়ারি বিকেল ১২টায় উপস্থিত হয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেছেন। মন্দিরের পবিত্র পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বর্তমান অবস্থা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।
শফিকুল আলমের মতে, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো বড় বাধা বা অসমতা দেখা যায়নি এবং সব দলকে সমান সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “এখন পর্যন্ত খুবই ভালো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে এবং নির্বাচনী পরিবেশ সন্তোষজনক।” এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কোনো দল বা প্রার্থীর প্রতি বৈষম্য করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনা ঘটেনি যা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভাব নির্দেশ করে।
বক্তব্যের মধ্যে তিনি বাংলাদেশের ধর্মীয় ঐতিহ্যের ওপরও আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ পীর-আউলিয়ার দেশ, ইসলামের শান্তির বার্তা পীর-দরবেশদের হাত ধরেই এসেছে।” তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তিরা অজুহাত নিয়ে মাজারে হামলা চালাচ্ছেন, যা তিনি নিন্দা করেন এবং এ ধরনের কাজের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
শফিকুল আলমের মন্তব্যে দেশের বহুমুখী ধর্মীয় ও বর্ণগত গঠনকে একসাথে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই দেশ সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের, সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করতে পারে, সেটিই প্রত্যাশা।” এভাবে তিনি জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব ও সামাজিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
শিববাড়ি মন্দির পর শফিকুল আলম জুবলী রোডে অবস্থিত বুড়া পীরের মাজার ও ঘাট এলাকার হজরত শাহ সুফী সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করেন। মাজারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মাজারের সুরক্ষা জোরদার করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে, স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রেস সচিবের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মশক্তি ও মনোভাবের উন্নতি মাজারের রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি উল্লেখ করেন, “মাজারগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে, একই সঙ্গে মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ছে।” এ ধরনের ব্যবস্থা নির্বাচনের সময় ধর্মীয় স্থানে সম্ভাব্য হুমকি কমিয়ে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণের জন্য গৃহীত এই পদক্ষেপগুলো আসন্ন নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। সরকার যদি সমান সুযোগের নীতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। তবে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দল ও পর্যবেক্ষক সংস্থার কাছ থেকে সমান সুযোগের বাস্তবায়ন সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রত্যাশিত।
সারসংক্ষেপে, শফিকুল আলমের বক্তব্যে সরকার নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, ধর্মীয় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং দেশের বহুমুখী সমাজের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনমতের ওপর প্রভাব ফেলবে।



