থাকুরগাঁয়ের কালিবাড়ি বাসভবনে আজ সকালে বিএনপি সচিব সাধারণ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের উত্তেজনা বাড়ছে, তবে রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের লক্ষ্য করে বাড়তে থাকা হত্যাকাণ্ডের হার উদ্বেগজনক। ফখরুলের মতে, বর্তমান শাসনব্যবস্থা এই সমস্যার সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
ফখরুলের মন্তব্যে তিনি বলেন, “জনতা নির্বাচনের জন্য উদগ্রীব, তবে আমি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট নই। রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের, বিশেষত আমাদের পার্টির সদস্যদের লক্ষ্য করে বাড়তে থাকা হত্যাকাণ্ডের হার ভয়াবহ।” তিনি অতিরিক্তভাবে জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এই ঘটনার কঠোর নিন্দা করেছি এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি যে তারা দায়িত্বশীলভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে।”
বিএনপি কার্যকরী চেয়ারম্যান তারিক রহমানের শীঘ্রই আসন্ন সফরকে ব্যক্তিগত সদিচ্ছার সফর হিসেবে বর্ণনা করেন। ফখরুল জানান, সফরের সময় রহমান শহীদ আবু সায়েদ এবং জুলাই উত্থানের অন্যান্য শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফর গ্রাসরুটে থাকা বিএনপি নেতা ও কর্মীদের প্রেরণা দেবে এবং পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল (জেসিডি) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পরাজয় মুখোমুখি হয়েছে, এ বিষয়ে ফখরুল বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি অতীত সরকারকালে জেসিডি ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোকে ক্যাম্পাস থেকে বাদ দেওয়া এবং তাদের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার কথা তুলে ধরেন, যা তাদের সংগঠনের স্বাভাবিক কাজকে কঠিন করে তুলেছিল।
ফখরুলের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কখনোই জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলেনি, এইবারও তা হবে না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ছাত্র নির্বাচনের গুরুত্বকে জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সীমিত করে দেখাতে চেয়েছেন।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসাথে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রশ্নে ফখরুল জানান, এই প্রস্তাবটি মূলত বিএনপি থেকেই এসেছে এবং পরে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো পূর্বে বিএনপি তার ৩১ পয়েন্টের এজেন্ডায় তুলে ধরেছিল। ফখরুলের মতে, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এতে কোনো আপত্তি করার কারণ নেই।
সংস্কার সংক্রান্ত তারিকের মন্তব্যে তিনি যোগ করেন, “সংস্কার একটি অবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া, আমি এতে কোনো বিরোধ দেখছি না।” এভাবে তিনি পার্টির সংস্কারমূলক নীতিগুলোর প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সরকারের কাছ থেকে সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
ফখরুলের শেষ মন্তব্যে তিনি সরকারেরকে আহ্বান জানান, যাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে এবং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যাতে নির্বাচনের পরিবেশ স্বচ্ছ ও নিরাপদ হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।



