ঢাকার জুবলী রোডে শুক্রবার সকালবেলা প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম মাজারে ধারাবাহিক হামলার নিন্দা জানিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বুড়া পীরের মাজার এবং গত বছর ভাঙচুর হওয়া থানার ঘাট এলাকায় হযরত শাহ সুফী সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ পীর আউলিয়ার দেশ, পীর আউলিয়ার হাত ধরে ইসলাম এসেছে। কেউ কেউ অজুহাতে মাজারে আঘাত হানছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এসব হামলা নিন্দনীয়।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে মাজারের প্রতি আক্রমণকে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়।
শফিকুল আলম দেশের ধর্মীয় ঐক্যের গুরুত্বেও জোর দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ, এখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ একসাথে শান্তিতে বসবাস করে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।” মাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, “পুলিশের মনোবল পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, মাজারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং জনগণও সচেতন হচ্ছে।”
মাজারে আক্রমণ সংক্রান্ত তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় থানা, যা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে ফাস্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (FIR) দাখিল করেছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, আক্রমণকারী বা সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করতে তদন্ত চলমান এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ক্যামেরা ফুটেজ, সাক্ষী বিবৃতি এবং মাজারের আশেপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরা রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হবে।
প্রেস সচিবের মন্তব্যের পর পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাজারের আশেপাশে অতিরিক্ত গার্ড বাড়ানো হবে এবং নিরাপত্তা কর্মীকে রাউন্ডে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মাজারের প্রবেশদ্বার ও পারিপার্শ্বিক এলাকায় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা হবে। নিরাপত্তা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসনও সমন্বয় করে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
মাজারে আক্রমণ নিয়ে ধর্মীয় সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি, সমাজে ধর্মীয় সহনশীলতা ও ঐক্যের বার্তা ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ধর্মীয় নেতারা উল্লেখ করেছেন, মাজারের মতো পবিত্র স্থানগুলোতে কোনো ধরনের হিংসা বা ধ্বংসের কাজ সমাজের শৃঙ্খলা নষ্ট করে এবং তা সহ্য করা যাবে না।
এই ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসা ও বাসিন্দারা নিরাপত্তা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, অধিকাংশই পুলিশ ও প্রশাসনের পদক্ষেপে আশাবাদী। তারা উল্লেখ করেন, সম্প্রতি নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রচেষ্টা ইতিবাচক ফল দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, মাজারে আক্রমণকে ধর্মীয় ঘৃণা অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেওয়া সম্ভব। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হবে। আদালত যদি প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী প্রমাণিত হয়, তবে তারা সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে শাস্তি পাবে।
শফিকুল আলমের মন্তব্যের পর, সংশ্লিষ্ট থানা ও জেলা প্রশাসন তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করলে তা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে জানাতে।
মাজারের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় ঐক্যের বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সরকারও ধর্মীয় স্থানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নীতি নির্ধারণের কথা বিবেচনা করছে। ভবিষ্যতে মাজারের মতো পবিত্র স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ধর্মীয় শান্তি ও সামাজিক সমন্বয় বজায় থাকে।
সারসংক্ষেপে, প্রেস সচিবের নিন্দা, পুলিশ ও প্রশাসনের নিরাপত্তা জোরদারির পদক্ষেপ এবং চলমান তদন্তের মাধ্যমে মাজারে আক্রমণকে দমন করার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে। এই ঘটনায় ধর্মীয় সহনশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সকল পক্ষের সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে।



