বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার সকালেই নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট করে জানান যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন কখনোই জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেনি। তিনি এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের কিছু মূল দিকও তুলে ধরেন।
ফখরুল বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ছাত্র সংসদে সাম্প্রতিক সাফল্যকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্বের শাসনকালে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল, ফলে তারা সংগঠনিক কাজ চালাতে পারেনি।
বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন জাতীয় ভোটের ফলাফলে কখনোই কোনো প্রভাব ফেলেনি এবং আসন্ন নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তা পরিবর্তিত হবে না বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফখরুলের উদ্বেগ প্রকাশ পায়। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নেতাদের ওপর ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং সরকার থেকে এই ঘটনার জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তিনি সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা চেয়ে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অধিকন্তু, তিনি সরকারেরকে রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃঢ় নীতি গ্রহণের দাবি করেন।
১২ জানুয়ারি তারেক রহমানের ঠাকুরগাঁও সফরের কথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তারেক রহমানের আগমনে ঢাকায় লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ সমাবেশ করে স্বাগত জানিয়েছে। তিনি যোগ করেন, যখন নেতা-গণ জেলা পর্যায়ে গমন করবেন, তখন স্থানীয় কর্মীরা আরও উদ্দীপ্ত হবে।
ফেসবুকে চলমান গণভোটে ‘না’ বলার প্রচারণা সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, যদিও এসব বার্তা সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায়, তবে তা দলের অফিসিয়াল অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। তিনি স্পষ্ট করেন, বিএনপি একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন চেয়েছিল এবং সরকার তা মেনে চলেছে।
বিএনপি যে সংস্কার বিষয়ক গণভোটের দাবি করেছিল, তা ২০১৬ এবং ২০২৩ সালে ৩১ নম্বর সংশোধনী মাধ্যমে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল। ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, সংস্কার তাদের মূলনীতি এবং চলমান প্রক্রিয়া, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এই সব মন্তব্যের পটভূমিতে দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে, এবং জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। ফখরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, দলটি একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত ও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চায়।
শেষে তিনি সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখে, যাতে ভোটারদের আস্থা বজায় থাকে এবং গণতন্ত্রের সঠিক কাজ নিশ্চিত হয়।
বিএনপি এই সময়ে তার রাজনৈতিক কৌশল গঠন করছে এবং দেশের বিভিন্ন স্তরে সমর্থন জোগাড়ের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



