শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালবেলায় ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়ি গ্রামাঞ্চলে নিজের বাসভবনে উপস্থিত হয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের জন্য জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করলেও বর্তমান নিরাপত্তা অবস্থা সন্তোষজনক নয়।
ফখরুল বলেন, “দেশের মানুষ নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে, কিন্তু বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়।” তিনি রাজনৈতিক নেতাদের ওপর ধারাবাহিক হিংসা ও হত্যাকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “যে হারে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা হচ্ছে, আমাদের দলের অনেক নেতাও এর শিকার হয়েছে।”
বিএনপি দলের পক্ষ থেকে এই ধরনের হিংসা নিন্দা জানানো সত্ত্বেও, সরকার থেকে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, এ কথাও তিনি জোর দিয়ে বলেন। ফখরুল আশা প্রকাশ করেন, সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ করে পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটার ব্যবস্থা করবে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করেন, “দেশের মানুষ নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে, কিন্তু বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়।” তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনের প্রভাব নিয়ে প্রশ্নে ফখরুল স্পষ্ট করে বলেন, “বিএনপি বিগত ১৭ বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংগঠনিক কার্যক্রম করতে পারেনি। তবে আমি জোর দিয়ে বলছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না।” তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন।
বিএনপি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দাবি করেছিল, যা সরকারীভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফখরুল উল্লেখ করেন, “বিএনপি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চেয়েছিল, যা সেভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।” তিনি এই বিষয়টি সরকারের প্রতি একটি চূড়ান্ত আহ্বান হিসেবে উপস্থাপন করেন।
সংস্কার সংক্রান্ত আলোচনায় দলটি ইতিমধ্যে ৩১ ধাপের মধ্যে নিজের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে, এ কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ফখরুলের মতে, এই সংস্কারগুলোতে দলটির স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
নিরাপত্তা বিষয়েও তিনি ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন, “আমি নিজের নিরাপত্তার জন্য কোনো বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরছি না। অনেক রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলা হওয়ার কারণে অনেকে হয়তো নিরাপত্তার জন্য বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরছেন।” তিনি নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ফখরুলের মতে, তরিক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সফরের মাধ্যমে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা আরও উজ্জীবিত হবেন এবং দলীয় কার্যক্রমে নতুন উদ্যম আসবে। সফরটি ব্যক্তিগত প্রকৃতির হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে তা উপেক্ষা করা যায় না।
সফরের সময় তরিক রহমান জুলাই শহীদ আবু সাঈদসহ অন্যান্য শহীদের কবর পরিদর্শন করবেন এবং মৃতবিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধি গমনেও অংশ নেবেন। তরিকের এই ভ্রমণকে দলীয় ঐতিহ্যবাহী দায়িত্বের অংশ হিসেবে ফখরুল উল্লেখ করেন।
এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ এবং সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহবুবর রহমান তুহিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মী ও আত্মীয়-স্বজন। সকল উপস্থিতি একত্রে দলের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
ফখরুলের মন্তব্যগুলো আইন-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন এবং উত্তরবঙ্গ সফরের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে, পাশাপাশি সরকারের কাছ থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানায়। তিনি শেষ পর্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, “আশা করি, সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ করবে এবং এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।”



