সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কুর্দি যোদ্ধাদের সঙ্গে কয়েক দিনের তীব্র লড়াইয়ের পর আলেপ্পোর তিনটি এলাকায় রাত তিনটায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত জানায়। এই সিদ্ধান্তের আওতায় শেখ মাকসুদ, আল‑আশরাফিয়েহ ও বনি জায়েদ এলাকায় অস্ত্রবিরতি থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন উত্তেজনা এড়াতে এই অঞ্চলগুলোতে যুদ্ধবিরতি আরোপ করা হবে এবং তা রাত তিনটায় কার্যকর হবে। একই সঙ্গে কুর্দি যোদ্ধাদেরকে সকাল নয়টায় পর্যন্ত উক্ত এলাকায় থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির মূল উদ্দেশ্য হল সামরিক সংঘর্ষে বাসস্থান হারানো বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে পুনরায় প্রবেশে সহায়তা করা। সরকার এই পদক্ষেপকে মানবিক জরুরি অবস্থা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।
আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল‑গারিব সরকারি সংবাদ সংস্থা সানাকে জানাতে বলেন, তিনি আশরাফিয়েহ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর কুর্দি বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সরকারি সেনাবাহিনী আলেপ্পোর এলাকায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স (এসডিএফ) সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের সংঘর্ষে অন্তত একুশজনের মৃত্যু ঘটেছে। উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিরতি দাবি করেছে।
এসডিএফ সিরিয়ার উত্তর ও উত্তর‑পূর্বের তেল‑সমৃদ্ধ অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে এবং ২০১৯ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) থেকে এই অঞ্চল পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই বাহিনী সরকারী সেনাবাহিনীর সঙ্গে বহুবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতা অর্জিত হয়নি।
কুর্দি প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সিরিয়ার সরকারের একীভূতকরণ চুক্তি কার্যকর করা বন্ধ রয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে সরকারী বাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে নতুন সংঘর্ষ শুরু হয়, যার দায়িত্ব উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর আরোপ করে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ইসলামপন্থী নেতা আল‑শারা ক্ষমতায় আসার পর থেকে আলেপ্পোরে সংঘটিত এই লড়াই সর্বোচ্চ তীব্রতার। এই পরিস্থিতি তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে, যেখানে ইসরায়েল কুর্দি গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত সরকারী ও কুর্দি বাহিনীর মধ্যে সমঝোতা চ্যানেল পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা, শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উঁচুতে।



