৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আরেকটি টেলিফোনিক আলোচনা পরিচালনা করেন। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা, বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে মতবিনিময় করেন। এই সংলাপটি পূর্বে একই বিষয়ে অনুষ্ঠিত কথোপকথনের ধারাবাহিকতা, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সংলাপকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চালু হয়েছে।
আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক বাধা হ্রাস, বিশেষ করে রপ্তানি-আমদানি পণ্যের শুল্ক হ্রাস এবং সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলাদেশ তার রপ্তানি পণ্যের জন্য পাকিস্তানের বাজারে প্রবেশ সহজতর করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে, একই সঙ্গে পাকিস্তানও বাংলাদেশের কৃষি পণ্য ও হালকা শিল্প পণ্যের প্রবেশে সুবিধা দিতে ইচ্ছুকতা প্রকাশ করে। উভয় পক্ষই পারস্পরিক বাণিজ্যিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা এবং নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বাণিজ্যিক বিষয়ের পাশাপাশি জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন সংযোগের প্রশ্নও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। উভয় দেশই গঙ্গা-ইন্দাস জলবণ্টন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমঝোতা বাড়াতে চায়, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা অর্জিত হয়নি। এছাড়া, দু’দেশের মধ্যে রেলওয়ে ও সড়ক সংযোগের উন্নয়ন, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে অবকাঠামো প্রকল্পের সমন্বয় নিয়ে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়।
সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও মতবিনিময় হয়। পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রী উল্লিখিত করেন যে, উভয় দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তথ্য শেয়ারিং এবং সমন্বিত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা উচিৎ। বাংলাদেশীয় উপদেষ্টা এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে, সীমানা নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা এবং সমুদ্র নিরাপত্তা বিষয়ক যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব দেন।
আলোচনার শেষে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফর এবং কর্মশালার আয়োজনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, পরবর্তী মাসে দু’দেশের উচ্চপদস্থ কূটনীতিকদের মধ্যে সরাসরি সাক্ষাৎকারের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে আজ পর্যন্ত আলোচিত বিষয়গুলোকে আরও বিশদে আলোচনা করা হবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই রকম সময়সূচি প্রকাশ করে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে।
এই ফোনালাপের মাধ্যমে উভয় দেশই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ককে গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বাণিজ্যিক সুবিধা, জলসম্পদ ভাগাভাগি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা এমন ক্ষেত্র যেখানে উভয় পক্ষই সমন্বয় বাড়াতে চায়। বিশেষত, বাণিজ্যিক শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব এবং অবকাঠামো সংযোগের পরিকল্পনা উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে জলবণ্টন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে এখনও পারস্পরিক সমঝোতা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, এই ধরনের উচ্চস্তরের কূটনৈতিক সংলাপ ভবিষ্যতে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক পরিমাণ বাড়াতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক চাপের প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। বর্তমান আলোচনার ফলাফল কীভাবে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপে রূপান্তরিত হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



