ঢাকা, ৯ জানুয়ারি ২০২৬ – ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত ঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় দেশের ছোট ও মাঝারি শিল্পখাতের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ধীর হয়ে পড়েছে। আর্থিক সংস্থাগুলি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদের হার থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হার ধার্য করছে, ফলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নগদ প্রবাহ বজায় রাখতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীরা উল্লেখ করছেন, উচ্চ সুদের চাপের ফলে নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে, বেশ কয়েকটি কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে এবং কর্মীসংখ্যা হ্রাসের পরিকল্পনা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি সরাসরি উৎপাদন খরচে প্রভাব ফেলছে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করে। এই পরিস্থিতি স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতা কমিয়ে দেয় এবং রপ্তানি সক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ায়।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে গৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ঋণের গড় সুদের হার গত ছয় মাসে প্রায় দুই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারের অস্থিরতা এবং মুদ্রা স্ফীতির প্রতিক্রিয়ায় ঘটেছে। ফলে, শিল্পখাতের জন্য প্রয়োজনীয় ঋণ গ্রহণের খরচ বেড়েছে।
স্থানীয় শিল্প সমিতির একটি জরিপে দেখা যায়, প্রায় অর্ধেক সদস্য প্রতিষ্ঠান ঋণ পুনর্গঠন বা অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত জামানত প্রদান করতে বাধ্য হয়েছে। এই শর্তাবলী নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রবেশের বাধা তৈরি করেছে এবং বিদ্যমান ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি সুদের হার দীর্ঘমেয়াদে উচ্চই থাকে, তবে উৎপাদন হ্রাসের ফলে জিডিপি বৃদ্ধির হার ধীর হয়ে যাবে। এছাড়া, শিল্পখাতে কর্মসংস্থান হ্রাসের সম্ভাবনা বাড়বে, যা বেকারত্বের হার বাড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
অধিকন্তু, উচ্চ সুদের পরিবেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এমন পরিবেশে পুঁজি বিনিয়োগে দ্বিধা করে, যেখানে রিটার্নের তুলনায় ঝুঁকি বেশি। ফলে, দেশের শিল্পখাতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর সীমিত হতে পারে।
সরকারের আর্থিক নীতি বিভাগ ইতিমধ্যে সুদের হার কমানোর জন্য কিছু প্রস্তাবনা বিবেচনা করছে। তবে, মুদ্রা স্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক ঋণ দায়বদ্ধতা বজায় রাখার দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং। এই সময়ে নীতি নির্ধারকদের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্ব বাড়ছে।
অবশেষে, শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা সুদের হার হ্রাস এবং ঋণ শর্তের নমনীয়তা চেয়ে সরকারের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা দাবি করছেন, সুদ কমলে উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সুরক্ষিত হবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। বর্তমান পরিস্থিতি যদি সমাধান না করা হয়, তবে স্থানীয় শিল্পের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে।



