ফ্রান্সের একটি গুহা থেকে প্রায় ৬০,০০০ বছর পুরনো পাথরের তীরের শীর্ষে উদ্ভিদ‑উৎপন্ন বিষের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যা প্রাচীন মানুষ কীভাবে শিকারের জন্য বিষ ব্যবহার করত তা স্পষ্ট করে। গবেষকরা গুহার স্তরে পাওয়া এই তীরগুলোকে বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে তীরের পৃষ্ঠে নির্দিষ্ট রসায়নিক চিহ্ন রয়েছে, যা আজকের পরিচিত কিছু বিষাক্ত উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত হতে পারে। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে আধুনিক মানুষ পূর্বপুরুষরা শিকারের দক্ষতা বাড়াতে জটিল প্রযুক্তি ব্যবহার করত।
তীরগুলোকে ল্যাবরেটরিতে রসায়ন বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে পাথরের পৃষ্ঠে থাকা অণুসমূহের গঠন পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলাফল দেখায় যে তীরের পৃষ্ঠে এমন পদার্থ রয়েছে, যা আজকের কিছু বিষাক্ত গাছের রসায়নের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেমন অ্যাকোনিটিনের মতো নিউরোটক্সিন। এই ধরনের রসায়নীয় চিহ্ন শুধুমাত্র তীরের শারীরিক আকারের পরিবর্তন নয়, বরং শিকারের সময় বিষের ব্যবহার নির্দেশ করে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে তীরগুলোকে তীক্ষ্ণ করে গাছের রস দিয়ে মাখা হয়েছিল, যা শিকারের লক্ষ্যবস্তুকে দ্রুত অচেতন করে তুলত। তীরের নকশা এবং ব্যবহারিক পদ্ধতি দেখায় যে প্রাচীন মানুষ শিকারের জন্য শুধু শারীরিক শক্তি নয়, রসায়নিক জ্ঞানও ব্যবহার করত। এই ধরনের জটিল কৌশল প্রমাণ করে যে তারা পরিবেশের উদ্ভিদ থেকে বিষ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং নিরাপদে ব্যবহার করার সক্ষমতা রাখত।
এই আবিষ্কার পূর্বের কিছু প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে প্রাগৈতিহাসিক গুহা চিত্রে শিকারের সময় তীরের সঙ্গে তরল পদার্থের ব্যবহার নির্দেশ করা হয়েছে। তবে গুহা থেকে সরাসরি রসায়নিক চিহ্ন পাওয়া প্রথমবারের মতো, যা বিষের ব্যবহারকে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করে। তীরের বয়স নির্ধারণের জন্য ক্যালসিনডার বিশ্লেষণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা গুহার স্তরের বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিষ ব্যবহার করে শিকারের পদ্ধতি মানব ইতিহাসে দীর্ঘদিনের একটি কৌশল বলে ধারণা করা হয়, তবে এই প্রাচীন উদাহরণটি দেখায় যে আধুনিক মানুষ পূর্বে থেকেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করত। তীরের নকশা, বিষের প্রয়োগের পদ্ধতি এবং গুহার অবস্থান সবই প্রমাণ করে যে শিকারের জন্য সমন্বিত কৌশল প্রয়োগ করা হতো। এটি মানবের জ্ঞানীয় বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যেখানে পরিবেশের সম্পদকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করা শিখা গিয়েছিল।
এই গবেষণার ফলাফল মানবের প্রাগৈতিহাসিক জীবনের জটিলতা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। তীরের বিষের ব্যবহার প্রমাণ করে যে শিকারের দক্ষতা শুধুমাত্র শারীরিক শক্তি নয়, বরং রসায়ন ও পরিবেশগত জ্ঞানের সমন্বয়। ভবিষ্যতে আরও গুহা ও পুরাতাত্ত্বিক স্থান থেকে সমজাতীয় প্রমাণ সংগ্রহ করলে প্রাচীন মানুষের শিকারের কৌশল সম্পর্কে আরও বিশদ জানা যাবে।
আপনার কি মনে হয়, প্রাচীন মানুষ কীভাবে এই বিষের উৎস চিহ্নিত করে এবং নিরাপদে ব্যবহার করত? এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যৎ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।



