দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে ঢাকা শহীদ তাজু্দ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে ৪০তম জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন হয়। দুই বছর অর্ধেকের বিরতির পর আজ থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে মোট ৪৫০টিরও বেশি খেলোয়াড় অংশ নেবে, যা জুলাই ২০২৩ের শেষ সংস্করণের দ্বিগুণ।
এই বছরের প্রতিযোগিতায় ৩০৯ জন প্যাডলিস্ট, যার মধ্যে ৭২ জন নারী, আটটি ইভেন্টে লড়াই করবে। পুরুষ একক, পুরুষ যুগল, পুরুষ দল, নারী একক, নারী যুগল, নারী দল এবং মিশ্র যুগল ছাড়াও জুনিয়র বিভাগে নতুন চারটি ইভেন্ট যুক্ত করা হয়েছে।
যুব খেলোয়াড়দের জন্য বয়সভিত্তিক চারটি নতুন শাখা—বয়স ১৯ বছরের নিচের ছেলেদের যুগল ও দল, এবং মেয়েদের যুগল ও দল—আয়োজিত হবে। মোট ৫৮ জন U-19 মেয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে, যা তরুণ টেবিল টেনিসের উত্সাহকে আরও বাড়াবে।
বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন (বিটিটিএফ) এর জেনারেল সেক্রেটারি ক্যাপ্টেন মাকসুদ আহমেদ উল্লেখ করেন, “প্রথম তিন দিন জুনিয়র খেলোয়াড়দের জন্য নির্ধারিত, যদিও প্রতিযোগিতা ততটা তীব্র নাও হতে পারে, তবে সিনিয়র খেলোয়াড়রা প্রশিক্ষণ ও দেশীয়-আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে, তাই ম্যাচের গতি দ্রুত হবে।”
প্রতিযোগিতায় ৪১টি জেলা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ আনসার, জেল পুলিশ, বাংলাদেশ বিমান, শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী ইউইটি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিসিকেপি সহ বিভিন্ন সংস্থার দল অংশগ্রহণ করবে। এই বৈচিত্র্য টেবিল টেনিসকে জাতীয় পর্যায়ে আরও সমৃদ্ধ করবে।
একজন প্রাক্তন টেবিল টেনিস খেলোয়াড়ের মতে, “২০২৫ সালের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের পাশাপাশি এই বছর আরেকটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ এবং প্রিমিয়ার লিগের আয়োজন করা হবে। এছাড়া, বিভাগীয় সদর দফতরে U-11, U-12, U-13, U-14 এবং U-15 স্তরে জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ চালু করা হবে, যাতে দেশের প্রতিটি কোণে টেবিল টেনিসের জনপ্রিয়তা বাড়ে।”
অর্থায়নের দিক থেকে ফেডারেশন কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। শামসু আহমেদ জানান, “স্পোর্টের সীমিত জনপ্রিয়তার কারণে কিছু স্পনসর প্রত্যাহার করেছে, ফলে তহবিল সংগ্রহে কঠিনতা দেখা দিচ্ছে।” তবুও, ফেডারেশনের সভাপতি শামসুজ্জামান নাসিম প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বাজেট নিশ্চিত করেছেন, যা অংশগ্রহণকারীদের বাসস্থান, খাবার ও পরিবহন ব্যয় মেটাতে ব্যবহার হবে।
বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো পুরস্কার অর্থ নির্ধারিত হয়নি, যা অংশগ্রহণকারীদের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে, ফেডারেশন এই তহবিলকে মূলত লজিস্টিক খরচে অগ্রাধিকার দেবে, যাতে সব খেলোয়াড়ের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
চ্যাম্পিয়নশিপের সূচি আট দিনব্যাপী চলবে, যেখানে প্রথম তিন দিন জুনিয়র বিভাগ, পরের দিনগুলোতে সিনিয়র বিভাগ এবং মিশ্র ইভেন্টের প্রতিযোগিতা হবে। প্রতিটি ইভেন্টের ফলাফল পরবর্তী দিনে প্রকাশ করা হবে, যা টেবিল টেনিস প্রেমিকদের জন্য উত্তেজনা বাড়াবে।
এই টুর্নামেন্টের সফলতা দেশের টেবিল টেনিসের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত করবে।



