ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত ছায়ানাটের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে আজ থেকে শুরু হয়ে শনিবার পর্যন্ত চলবে দুই দিনের শুদ্ধসঙ্গীত উৎসব। এই অনুষ্ঠানটি দক্ষিণ এশীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিশাল ব্যক্তিত্ব উস্তাদ আল্লাউদ্দিন খানকে সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয়েছে। সংগীতপ্রেমী ও শিল্পজীবী এই দুই দিনের প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবে, যা সম্পূর্ণভাবে শুদ্ধ সঙ্গীতের ধারাবাহিকতা ও শৈল্পিক গুণকে তুলে ধরবে।
উৎসবের আয়োজনকারী ছায়ানাটের প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনুষ্ঠানটি অডিটোরিয়ামের মূল হলের মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে এবং দুই দিনের মধ্যে মোট তিনটি সেশন থাকবে। প্রথম সেশনটি শুক্রবার বিকেল ৩:৩০ থেকে রাত ৯:৩০ পর্যন্ত চলবে, যেখানে শাস্ত্রীয় রাগের বিভিন্ন রূপ উপস্থাপিত হবে। দ্বিতীয় সেশনটি শনিবার সকাল ৮:৩০ থেকে দুপুর ১২:৩০ পর্যন্ত চলবে, এবং তৃতীয় ও শেষ সেশনটি একই দিনে বিকেল ২টা থেকে রাত ৯:৩০ পর্যন্ত চলবে।
প্রথম দিনের সন্ধ্যায় শুরু হওয়া সেশনটি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্যবাহী রূপকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুরেলা মেলবন্ধন উপস্থাপন করবে। এতে সিতার, তবলা, শাঁখ এবং শাখের মতো ঐতিহ্যবাহী যন্ত্রের পারফরম্যান্স থাকবে, যা উস্তাদ আল্লাউদ্দিন খানের শৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দর্শকরা শোয়ের মাঝখানে বিরতি ছাড়াই ধারাবাহিক সুরের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।
শুক্রবারের শেষ সেশনটি সন্ধ্যায় ২টা থেকে রাত ৯:৩০ পর্যন্ত চলবে, যেখানে উস্তাদের শিষ্য ও শাখা-শাখি শিল্পীরা তার সৃষ্টিকর্মের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করবেন। এই সেশনটি শুদ্ধসঙ্গীতের গভীরতা ও শৃঙ্খলা তুলে ধরতে বিশেষভাবে পরিকল্পিত। শেষ পর্যন্ত একটি সম্মানসূচক সমাপনী অনুষ্ঠানও থাকবে, যেখানে উস্তাদের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে কিছু বিশেষ রচনা পরিবেশিত হবে।
উৎসবের অংশগ্রহণের জন্য দর্শকদের প্রত্যেক সেশনের জন্য আলাদা করে নিবন্ধন করতে হবে। অডিটোরিয়ামের সিটের সীমিত সংখ্যা থাকায় আগাম রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনে এবং কেন্দ্রীয় কন্ট্রাক্টে সরাসরি করা যাবে, এবং প্রবেশের সময় টিকিট দেখাতে হবে।
উস্তাদ আল্লাউদ্দিন খান দক্ষিণ এশীয় সঙ্গীতের অন্যতম মূর্তিমান ব্যক্তিত্ব, যিনি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার শিক্ষাদান ও সৃষ্টিকর্ম বহু প্রজন্মের সঙ্গীতশিল্পীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। এই উৎসবের মাধ্যমে তার সঙ্গীত দার্শনিকতা, রাগের সূক্ষ্মতা এবং শৈল্পিক শৃঙ্খলা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
শুদ্ধসঙ্গীত উৎসবের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধ সঙ্গীতের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং তার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা। অনুষ্ঠানটি তিনটি সেশনের মাধ্যমে শাস্ত্রীয় রাগের বিভিন্ন দিক—প্রারম্ভিক রাগ, মধ্যম রাগ এবং সমাপ্তি রাগ—কে পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করবে। প্রতিটি সেশনে নির্বাচিত রচনার মাধ্যমে শ্রোতাদের শুদ্ধ সুরের গভীরতা অনুভব করার সুযোগ দেওয়া হবে।
উৎসবের আয়োজকরা উল্লেখ করেছেন যে, এই দুই দিনের প্রোগ্রামটি শুদ্ধসঙ্গীতের প্রতি নতুন আগ্রহ জাগাতে এবং তরুণ শিল্পীদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। শোয়ের শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রশ্নোত্তর সেশনও পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে সঙ্গীতের তত্ত্ব ও অনুশীলন সম্পর্কে আলোচনা হবে। এই ধরনের ইন্টারেক্টিভ সেশন শুদ্ধসঙ্গীতের শিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করে তুলবে।
দর্শকরা এই উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উস্তাদ আল্লাউদ্দিন খানের সৃষ্টিকর্মের সরাসরি অভিজ্ঞতা লাভ করবেন এবং শুদ্ধসঙ্গীতের বিভিন্ন রূপের সঙ্গে পরিচিত হবেন। অনুষ্ঠানটি সঙ্গীতপ্রেমী, গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সমানভাবে উপযোগী, কারণ এতে ঐতিহ্যবাহী রাগের পাশাপাশি আধুনিক ব্যাখ্যা ও সৃজনশীলতা মিশ্রিত হয়েছে।
ছায়ানাটের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অডিটোরিয়াম এই দুই দিনের জন্য বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে, যেখানে সাউন্ড সিস্টেম ও আলো-ধূসর পরিবেশ শুদ্ধসঙ্গীতের মাধুর্যকে বাড়িয়ে তুলবে। দর্শকরা সিটে বসে শান্ত পরিবেশে সুরের মায়া উপভোগ করতে পারবেন, যা শহরের কোলাহল থেকে এক মুহূর্তের বিশ্রাম দেবে।
উৎসবের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে উস্তাদের শিষ্যগণ তার সৃষ্টিকর্মের একটি বিশেষ সংকলন উপস্থাপন করবেন, যা শুদ্ধসঙ্গীতের ঐতিহ্যকে আধুনিক সময়ের সঙ্গে যুক্ত করবে। এই সমাপনী অনুষ্ঠানটি শুদ্ধসঙ্গীতের ধারাবাহিকতা ও তার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরবে।
সর্বোপরি, শুদ্ধসঙ্গীত উৎসবটি উস্তাদ আল্লাউদ্দিন খানের সঙ্গীতিক উত্তরাধিকারকে সম্মান জানাতে এবং শুদ্ধ সঙ্গীতের নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। সংগীতের এই উত্সবটি ঢাকার সাংস্কৃতিক জীবনে নতুন রঙ যোগ করবে এবং শুদ্ধসঙ্গীতের প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ বাড়াবে।



