19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকুতুবদিয়ার ট্রলার ডুবে তিনজন নিহত, এক কিশোর নিখোঁজ

কুতুবদিয়ার ট্রলার ডুবে তিনজন নিহত, এক কিশোর নিখোঁজ

কুতুবদিয়া উপজেলায় মাছ ধরার ট্রলার ডুবে তিনজনের মৃত্যু এবং আটজনের গুরুতর আঘাত নিশ্চিত হয়েছে। দুর্ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরও নিখোঁজ রয়ে গেছে। ঘটনাস্থল হল কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের অমজাখালী গ্রাম, যেখানে কামাল কোম্পানির মালিকানাধীন এহসান মাঝির ফিশিং ট্রলার কাজ করছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ট্রলারটি সমুদ্রের গভীর জলে মাছ ধরার সময় হঠাৎ ডুবে যায়। ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে ট্রলারের মাঝি ও জেলেরা পানিতে ছিটকে পড়ে, ফলে তৎক্ষণাৎ আশেপাশের কয়েকটি বোট তাদের লক্ষ্য করে।

বহু বোটের দল সাগরে ভাসমান অবস্থায় আটজন জেলেকে আহত অবস্থায় দেখেন এবং তৎক্ষণাৎ উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহত জেলেদের দ্রুত নিকটস্থ বন্দরস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বিপদের খবর বোটের মালিকদের জানার পর, অতিরিক্ত কয়েকটি বোট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি তীরে টেনে আনে। ট্রলারটি কুতুবদিয়ার সমুদ্রতটে নিয়ে যাওয়ার পর, ভিতর থেকে দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতদেহের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম মৃতজন হলেন এহসান (২৫), পিতা জশির আলম, অমজাখালী এলাকার মাঝি, যিনি ট্রলারের প্রধান চালক ছিলেন। দ্বিতীয় মৃতজন হলেন লেদু, পিতা আলী আকবর ডেইল, একই গ্রাম থেকে জেলে। উভয়ের নাম স্থানীয় রেকর্ডে সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অবশিষ্ট এক কিশোর, মো. ফয়সাল (১২), পিতা মাহামুল করিম, অমজাখালী গ্রাম থেকে, দুর্ঘটনার সময় ট্রলারে ছিলেন এবং এখনো পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জেলে ও বোটের মালিকরা সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় পুলিশ ও সমুদ্র নিরাপত্তা অধিদপ্তর ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বলা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় সমুদ্রের ঢেউ তুলনামূলকভাবে উচ্চ ছিল, যা ট্রলার ডুবে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ট্রলারের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও রেডিও সংযোগের অবস্থা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া, জেলেদের বীমা নথি ও ট্রলারের রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ডও পর্যালোচনা করা হবে।

দুর্ঘটনা সংক্রান্ত আইনি দিক থেকে, সমুদ্র নিরাপত্তা অধিদপ্তর ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় শোক প্রকাশ করে, একই সঙ্গে উদ্ধার কাজের দ্রুততা ও সঠিকতা প্রশংসা করছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে, নিখোঁজ কিশোরের সন্ধান দ্রুত শেষ হবে এবং সকল আহতের সুষ্ঠু চিকিৎসা নিশ্চিত হবে।

দুর্ঘটনা ঘটার পর, স্থানীয় প্রশাসন জরুরি ত্রাণ সামগ্রী ও চিকিৎসা সরবরাহের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে মাছ ধরার জাহাজের নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত চলাকালীন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানানো হয়েছে যে, ট্রলার ডুবে যাওয়ার সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য সমুদ্রের বর্তমান অবস্থা, জাহাজের লোডিং ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিস্থিতি সবই বিশ্লেষণ করা হবে। শেষ পর্যন্ত, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতায় দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments