গুইনেথ প্যালট্রো, একাধিক একাডেমি পুরস্কারধারী অভিনেত্রী ও GoGo নামক লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা, এই সপ্তাহে লস এঞ্জেলেসের Maybourne Beverly Hills হোটেলে অনুষ্ঠিত The Hollywood Reporter-এর Awards Chatter পডকাস্টে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে তিনি নিজের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার, ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং সাম্প্রতিক কাজের কথা বিশদভাবে ভাগ করে নেন। পডকাস্টের আলোচনার মূল বিষয় ছিল কীভাবে তিনি অভিনয় ও উদ্যোক্তা জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করছেন।
প্যালট্রো তার ক্যারিয়ারে অস্কার, এমি এবং গোল্ডেন গ্লোব সহ তিনটি প্রধান পুরস্কার জিতেছেন, যা তাকে হলিউডের শীর্ষস্থানীয় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার প্রথম অস্কার ১৯৯৯ সালের ‘Shakespeare in Love’ ছবিতে সেরা নারী অভিনেত্রী হিসেবে আসে, আর পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি বিভিন্ন শাখার পুরস্কার জয় করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন।
১৯৯০-এর দশক থেকে ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে প্যালট্রো একাধিক স্মরণীয় চলচ্চিত্রে মুখরোচক পারফরম্যান্স উপস্থাপন করেন। ১৯৯৫ সালের ‘Se7en’, ১৯৯৬ সালের ‘Emma’, ১৯৯৮ সালের ‘Shakespeare in Love’, ১৯৯৯ সালের ‘The Talented Mr. Ripley’, ২০০১ সালের ‘The Royal Tenenbaums’, ২০০৩ সালের ‘Sylvia’, ২০০৫ সালের ‘Proof’ এবং ২০০৮ সালের ‘Iron Man’ তার চলচ্চিত্র তালিকায় উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে।
সেই সময়ে প্রধান আমেরিকান সংবাদপত্রগুলো তাকে তরুণ হলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী হিসেবে প্রশংসা করেছিল, এবং তার উপস্থিতি দর্শকদের জন্য মানসম্পন্ন পারফরম্যান্সের গ্যারান্টি হিসেবে বিবেচিত হতো। ভ্যানিটি ফেয়ারও তাকে শুধুমাত্র তারকা নয়, বরং সম্মানজনক অভিনেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘People’ তাকে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর নারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল, যা তার জনপ্রিয়তা ও স্টাইল আইকন হিসেবে অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে। এই ধরণের স্বীকৃতি প্যালট্রোর জনমুখী চিত্রকে শক্তিশালী করে এবং তার ব্র্যান্ডের জন্য অতিরিক্ত প্রভাব তৈরি করে।
২০০৮ সালে তিনি GoGo নামে একটি বিনামূল্যের নিউজলেটার চালু করেন, যা ধীরে ধীরে একটি বৈশ্বিক সংস্কৃতি প্রবণতায় রূপান্তরিত হয়। মূলত স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য এবং জীবনধারার টিপস শেয়ার করা এই প্ল্যাটফর্মটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পণ্য বিক্রয়, ইভেন্ট এবং অনলাইন স্টোরে পরিণত হয়।
২০২০ সালে GoGo-এর মূল্যায়ন $৪৩৩ মিলিয়ন হিসেবে প্রকাশিত হয়, যা প্যালট্রোর ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্র্যান্ড নির্মাণের ক্ষমতাকে স্পষ্ট করে। এই আর্থিক সাফল্য তার অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে সরে যাওয়ার কারণও হয়ে দাঁড়ায়, কারণ তিনি ব্যবসায়িক দায়িত্বে বেশি মনোযোগ দেন।
তবু ২০২৫ সালে প্যালট্রো আবার বড় পর্দায় ফিরে আসেন, যখন তিনি জোশ সাফডির পরিচালিত ‘Marty Supreme’ ছবিতে টিমোথি শালামের সঙ্গে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেন। ছবিতে তিনি এমন এক নারী চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি একসময় অভিনয় ত্যাগ করে অন্য পেশায় গিয়ে পরে আবার ফিরে আসেন। এই মেটা-রোলটি তার নিজের ক্যারিয়ারের কিছু দিককে প্রতিফলিত করে।
‘Marty Supreme’ এ তার পারফরম্যান্সের জন্য শিল্প সমালোচক ও পুরস্কার কমিটি ইতিমধ্যে সেরা সহায়ক অভিনেত্রী অস্কার প্রার্থনা শুরু করেছে, যা তার অস্কার জয়ের ২৭ বছর পরের একটি নতুন সাফল্য হিসেবে বিবেচিত। এই প্রত্যাশা প্যালট্রোর পুনরায় পর্দায় ফিরে আসার সময়কে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
পডকাস্টে তিনি তার শৈল্পিক যাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিল তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি প্রথমে মিরাম্যাক্সের সঙ্গে কাজ করে ‘First Lady of Miramax’ নামে পরিচিত হন, এবং হ্যারভি ওয়াইনস্টেইনের কোম্পানিতে কাজ করার সময় তিনি বহু তরুণ পরিচালককে সমর্থন করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
ডেভিড ফিঞ্চার, পল থমাস অ্যান্ডারসন, আলফোনসো কুয়ারন এবং ওয়েস অ্যান্ডারসনের মতো বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে তার প্রাথমিক সহযোগিতা তার শিল্পী দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পরিচালকদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তাকে বিভিন্ন শৈলীর সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং অভিনয়ের গভীরতা অন্বেষণ করতে সহায়তা করে।
প্যালট্রো এই কথোপকথনে স্বীকার করেন যে তার ব্যবসা ও শিল্পের দ্বৈত দায়িত্ব কখনও কখনও টানাপোড়েনের মতো অনুভূত হয়, তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে উভয় ক্ষেত্রেই সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব। তিনি তরুণ উদ্যোক্তা ও শিল্পীদের জন্য পরামর্শ দেন যে নিজের আগ্রহের প্রতি সত্য থাকা এবং ঝুঁকি নিতে ভয় না করা উচিত।
গুইনেথ প্যালট্রোর এই বহুমুখী যাত্রা পাঠকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উৎস, যেখানে তিনি দেখিয়ে দেন যে শিল্প ও ব্যবসা দুটোই সমানভাবে সফল হতে পারে। ভবিষ্যতে তিনি কী নতুন প্রকল্পে হাত দেবেন তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে, এবং তার অনুসারীরা তার পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।



