১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতিতে অবৈধ অস্ত্র, গুজব ও সীমান্ত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিংয়ে ২২৬ কর্মকর্তা বিস্তৃতভাবে আলোচনা করেন।
ব্রিফিংটি গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন আটজন বিভাগীয় কমিশনার, আটজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট, ইসিআরের দশজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা এবং ৬৪ জেলার নির্বাচন কর্মকর্তাসহ মোট দুইশত ছাব্বিশজন সরকারি কর্মী।
বৈধ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, উপস্থিত কর্মকর্তারা অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ছড়ানো এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জামিনে থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এছাড়া সীমান্তে নিরাপত্তার দুর্বলতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে অবৈধ অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহারকে বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কিছু কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, যদি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের অনিয়ম ঘটে, তবে তা গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ হতে পারে। তবে সকল উপস্থিত কর্মকর্তা একমত যে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হবে।
নির্বাচনের সময়সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ১১ ডিসেম্বর ঘোষিত হয়েছে, আর ভোট গ্রহণের নির্দিষ্ট তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত। তফসিল ঘোষণার পরপরই ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়, যার ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু পরপরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভের ঢেউ তোলা হয়, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ে এবং নির্বাচনের পূর্বে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়।
গত বছরের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৫,৭৫৩টি অস্ত্র লুট হওয়ার ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজারটি উদ্ধার করা হয়েছে, তবে এখনও এক হাজারের বেশি অস্ত্র অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়ে গেছে। এই অবশিষ্ট অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে।
অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে থাকা অবৈধ শস্ত্রের পরিমাণও উদ্বেগের বিষয়। নির্বাচনের সময় এসব অস্ত্রের ব্যবহার ঘটলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এই দিকটি বিশেষভাবে নজরে রাখছে।
অফিসাররা সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তাব দেন, যাতে অবৈধ শস্ত্রের প্রবেশ রোধ করা যায়। এছাড়া চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জামিন বন্ধ রাখতে বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করার বিষয়টি আলোচনার তালিকায় যুক্ত করা হয়। জামিনে থাকা অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন উপস্থিত কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেন। চারজন নির্বাচন কমিশনারও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন, যাতে প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হয়।
ব্রিফিংয়ের শেষে, সকল অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা একসাথে প্রতিশ্রুতি জানান যে, নির্বাচনের সময় কোনো ধরণের অনিয়ম বা অবৈধ কার্যকলাপ না ঘটাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। তারা উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে, গুজবের প্রতিরোধে তথ্যের সঠিক প্রচার এবং সামাজিক মিডিয়ার দায়িত্বশীল ব্যবহার



