বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই টুর্নামেন্টে নিগার সুলতানা অধিনায়কত্বে মাঠে নামবে। টুর্নামেন্টটি নেপালে অনুষ্ঠিত হবে এবং দলটি ১৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে। বাছাইয়ের শেষ পর্যন্ত দলটি সুপার সিক্সে পৌঁছালে জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত মূল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
গত কয়েক সপ্তাহে দলের বাইরে বিভিন্ন বিতর্কের মুখে ছিল, যার মধ্যে অধিনায়ক নিগার সুলতানার ওপর কিছু অভিযোগও উঠে আসে। তবুও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তার নেতৃত্বে পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে এবং বাছাইয়ের দায়িত্ব তাকে অর্পণ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
নেপালে অনুষ্ঠিত এই বাছাই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ এক বছর পর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ফিরে আসবে। শেষবার দলটি টি-টোয়েন্টি খেলেছিল জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে, যেখানে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুটোই একত্রে একটি স্কোয়াডে খেলা হয়েছিল। সেই সময়ের স্কোয়াডে এখন কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সর্বশেষ স্কোয়াডে ১৬ খেলোয়াড়ের তালিকা থেকে তিনজন বাদ পড়েছেন: মুরশিদা খাতুন, লতা মন্ডল এবং তাজ নেহার। তাদের পরিবর্তে অলরাউন্ডার রিতু মনি এবং নতুন মুখ জুয়াইরিয়া ফেরদৌসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো দলকে নতুন শক্তি ও বিকল্প প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের ক্রিকেট যাত্রা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত এগিয়ে এসেছে। জানুয়ারিতে তিনি অন্ডার-১৯ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন এবং নভেম্বরের জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টিতে ১৮৯ রান সংগ্রহ করে ১৩১.২৫ স্ট্রাইক রেট অর্জন করেন। তার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিতে তিনি ‘প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার’ পুরস্কার জিতেছেন, এবং তার বয়স মাত্র বিশ বছর।
দলটির অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ফারজানা হকও বাছাই স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যদিও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক বছর আগে তিনি শেষ সিরিজের স্কোয়াডে ছিলেন, তবে কোনো ম্যাচে সুযোগ পাননি। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি মে ২০২৩-এ অংশ নেন, তখন পর্যন্ত তিনি ৮৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৮১.৬২ স্ট্রাইক রেট বজায় রেখেছেন।
বাছাই টুর্নামেন্টের সূচি নিম্নরূপ: ১৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে, ২০ জানুয়ারি পাপুয়া নিউগিনি, ২২ জানুয়ারি নামিবিয়া এবং ২৪ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচ হবে। মোট দশটি দল দুইটি গ্রুপে ভাগ হবে, প্রতিটি গ্রুপে পাঁচটি করে দল থাকবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ তিনটি দল সুপার সিক্সে অগ্রসর হবে, যেখানে আবার শীর্ষ চারটি দল জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত মূল বিশ্বকাপে অংশ নেবে।
বাছাইয়ের আগে দলটি গা গরমের দুইটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে। প্রথমটি ১৪ জানুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এবং দ্বিতীয়টি ১৬ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের সঙ্গে নির্ধারিত। এই ম্যাচগুলো দলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বাছাই স্কোয়াডের পূর্ণ তালিকা নিম্নরূপ: অধিনায়ক নিগার সুলতানা, সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার, সোবহানা মোস্তারি, ফারজানা হক, শারমিন আক্তার, দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন, স্বর্ণা আক্তার, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, সানজিদা আক্তার মেঘলা এবং সুলতানা খাতুন।
স্ট্যান্ড বাই তালিকায় শারমিন সুলতানা, ফারজানা ইয়াসমিন, শরিফা খাতুন, ফাতেমা জাহান সোনিয়া এবং হাবিবা ইসলাম পিঙ্কি অন্তর্ভুক্ত। এই খেলোয়াড়রা প্রয়োজনে মূল স্কোয়াডে যোগ দিতে প্রস্তুত থাকবে।
বাছাই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ যদি গ্রুপের শীর্ষ তিনের মধ্যে স্থান করে নিতে পারে, তবে সুপার সিক্সে প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার পথে অগ্রসর হবে। দলটি এখন পর্যন্ত যে পরিবর্তন ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, তা টুর্নামেন্টের ফলাফলে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



