যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজের শোতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন মেক্সিকোর মাদক কার্টেলকে লক্ষ্য করে ভূমি আক্রমণ শুরু করতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরে নৌবাহিনীর ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, তবে এখন মেক্সিকোর ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী মাদক বিরোধী নীতি এবং ল্যাটিন আমেরিকায় তার প্রভাব বাড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের সময় তিনি বললেন, “আমরা এখন কার্টেলদের বিরুদ্ধে ভূমি আক্রমণ শুরু করছি। কার্টেলগুলো মেক্সিকোকে দখল করে রাখছে।” এই বক্তব্যটি ফক্স নিউজের সীন হ্যানিটি পরিচালিত সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত হয়। তিনি অতিরিক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে, পূর্বে সমুদ্রের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
মার্চের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী পূর্বে ভেনেজুয়েলায় অবস্থিত একটি ডকিং এলাকায় মাদক জাহাজের জন্য ভূমি আক্রমণ চালায়। একই সময়ে, সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর মাধ্যমে ১০০ টিরও বেশি মানুষকে লক্ষ্য করে সমুদ্রের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এই আক্রমণগুলোকে মাদক পাচার রোধের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
মেক্সিকোর ভূখণ্ডে সরাসরি আক্রমণ চালানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সামরিক বাড়তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি মূলত সমুদ্রের ওপর সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে মাদক জাহাজ ধ্বংস বা আটক করা হয়। তবে ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা মেক্সিকোর সীমানা পার করে মাদক উৎপাদন ও বিতরণ নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করবে, যা দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মোড়ে নিয়ে যাবে।
ভেনেজুয়েলার অস্থায়ী সরকার, যা বামপন্থী নেতৃত্বে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা আক্রমণকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে সমালোচনা করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপকে ল্যাটিন আমেরিকায় হস্তক্ষেপের একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউমও ট্রাম্পের মন্তব্যের পর তৎক্ষণাৎ মন্তব্য করেন, আমেরিকান মহাদেশ “কোনো একক শক্তির অধীন নয়”। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হেমিস্ফিয়ার দখল করার দাবি ও মেক্সিকোর সার্বভৌমত্বের প্রতি আক্রমণকে প্রত্যাখ্যান করেন। শেইনবাউমের মতে, মেক্সিকো তার নিজস্ব নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণের অধিকার রাখে এবং কোনো বিদেশি সেনা উপস্থিতি তার স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ণ করবে।
ট্রাম্পের মতে, তিনি শেইনবাউমকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য পাঠের প্রস্তাব দিয়েছেন, তবে মেক্সিকোর সরকার পূর্বে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। শেইনবাউমের সরকার এই প্রস্তাবকে মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ের হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোর ভূখণ্ডে সরাসরি আক্রমণ চালায়, তবে তা ল্যাটিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের পুনঃসংজ্ঞা ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে, মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়তে পারে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও জনমতকে প্রভাবিত করবে। এছাড়া, ভেনেজুয়েলা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপরও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের নতুন সামরিক নীতি মেক্সিকোর মাদক কার্টেলকে লক্ষ্য করে ভূমি আক্রমণ চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা পূর্বের সমুদ্র-ভিত্তিক আক্রমণ থেকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। ভেনেজুয়েলা ও মেক্সিকোর সরকার উভয়ই এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের হুমকি হিসেবে দেখছে, এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাটিন আমেরিকায় সামরিক উপস্থিতি নিয়ে তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।



