ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি সতর্কতা প্রকাশ করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিদেশি সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে ডেনিশ সৈন্য প্রথমে গুলি চালাবে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘোষণা ২০২৬ সালের শুরুর দিকে প্রকাশিত হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছা পুনরায় প্রকাশ করে।
ডেনমার্কের এই সতর্কতা ১৯৫২ সালে গৃহীত সেনা ‘রুল অব এনগেজমেন্ট’ নীতির ওপর ভিত্তি করে। সেই নীতি অনুযায়ী, কোনো আক্রমণের সময় উচ্চতর অনুমোদনের অপেক্ষা না করে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে সৈন্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই নিয়ম এখনও কার্যকর এবং কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে, অধিগ্রহণের জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার হিসেবে আর্টিক অঞ্চলে প্রতিপক্ষের উপস্থিতি সীমিত করার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন করে জানান, গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশলের মূল অংশ এবং এর জন্য বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে, যার মধ্যে সামরিক শক্তি ব্যবহার করা অন্তর্ভুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্টের কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আগামী সপ্তাহে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। রুবিও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং সামরিক পথে যাওয়া তার শেষ বিকল্প। তিনি ডেনমার্কের সঙ্গে আলোচনাকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে ‘প্রয়োজনীয় সংলাপ’ বলে উল্লেখ করেন।
ডেনমার্কের সরকারও রুবিওর মন্তব্যের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখে। তবে ডেনিশ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানায়, গ্রিনল্যান্ড কোনো বিক্রয়ের বিষয় নয় এবং কোনো বিদেশি শক্তির অনুপ্রবেশে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ডেনমার্ককে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ বলে সমালোচনা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্টিক স্বার্থ রক্ষার জন্য ট্রাম্প ‘যতদূর প্রয়োজন, ততদূর’ যাওয়ার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছেন। এই মন্তব্য ডেনমার্কের নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
ইউরোপীয় নেতারা সাম্প্রতিক এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পকে সতর্ক করে জানান, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের ভূ-রাজনৈতিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করা আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী। তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের দাবি ও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপকে অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছে।
এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক সম্পর্কের পাশাপাশি ন্যাটো ও আর্টিক কৌশলগত গঠনে নতুন জটিলতা যোগ করেছে। ডেনমার্কের ‘আগে গুলি, পরে প্রশ্ন’ নীতি পুনরায় জোরদার হওয়ায় ভবিষ্যতে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের ইচ্ছা ও ডেনমার্কের কঠোর অবস্থান উভয়ই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে যাবে।



