মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় অবস্থিত ভোগতেরা গ্রাম থেকে কামিনীগঞ্জ বাজারের বড় মসজিদ সড়কের কাছে বাস করে ৪০ বছর বয়সী রাজু আহমদ, যিনি একাধিক কাজের মধ্যে সময় ভাগ করে প্রতিদিন সন্ধ্যায় রুটি কিনে সড়কের পাশে থাকা পথকুকুরদের খাওয়ান। তিনি এই কাজটি প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিতভাবে চালিয়ে আসছেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজে আনন্দের কথা প্রকাশ করেছেন।
রাজু আহমদ স্থানীয় গণমাধ্যমে কাজ করেন, পাশাপাশি কবি ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত। তার প্রধান আয় ইট‑বালু ব্যবসা থেকে আসে, যা তিনি কামিনীগঞ্জ বাজারের বড় মসজিদ সড়ক ও ভবানীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডের নিকটস্থ স্থানে পরিচালনা করেন। কাজের চাপ কমে যাওয়া সন্ধ্যায় তিনি নিকটস্থ কোনো দোকান বা রেস্তোরাঁ থেকে রুটি কিনে সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে কুকুরদের ভাগ করে দেন।
একটি সন্ধ্যায় দেখা গিয়েছে, রাজু আহমদ তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সামনে রুটির একটি প্যাকেট হাতে নিয়ে চার‑পাঁচটি কুকুরের ঘিরে দাঁড়িয়ে রুটি টুকরো টুকরো করে ছেড়ে দিচ্ছিলেন। কুকুরগুলো তৃপ্তি নিয়ে রুটি গিলে ফেলছিল, আর রাজু আনন্দের সঙ্গে বলেন, তিনি প্রায় প্রতিদিনই এই কাজটি করেন, কারণ সন্ধ্যায় অন্য কোনো কাজের সুযোগ থাকে না।
কামিনীগঞ্জ বাজারের বড় মসজিদ সড়ক এবং ভবানীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডের কাছে সন্ধ্যাবেলা কয়েকটি কুকুরের দল জমায়েত হয়। রাজু পালাক্রমে উভয় স্থানে গিয়ে কুকুরদের খাবার দেন। তিনি জানান, মানুষজনের কাজের আনন্দ ভিন্ন ভিন্ন, তবে অনেকেই পথকুকুরকে ঘৃণা করে, দূরে সরিয়ে দেয় বা তাড়া করে। এ ধরনের আচরণ তাকে দুঃখী করে, তাই তিনি কুকুরদের খাবার দিয়ে নিজে সান্ত্বনা পান।
রাজু উল্লেখ করেন, কুকুরদের খাবার দেওয়া তার জন্য অতিরিক্ত খরচের বিষয় নয়, সময়ের অপচয়ও নয়; সামান্য প্রস্তুতি দিয়ে তিনি তাদের তৃপ্তি দিতে পারেন। সাম্প্রতিক শীতল বায়ুতে কুকুরগুলো বিশেষভাবে কষ্ট পাচ্ছে, তাই তিনি রাতে সড়কের পাশে কিছু খড় ও চটের বস্তা রেখে শীত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। তবে পরদিন সকালে দেখা যায়, বস্তা ও খড় উড়ে গিয়ে ছাই হয়ে আছে, যা সম্ভবত রাতের অন্ধকারে কেউ পুড়িয়ে ফেলেছে। এই ঘটনার ফলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
রাজু আহমদ বলেন, তিনি এই কাজটি চালিয়ে যাওয়ার কারণ হল কুকুরদের প্রতি তার সহানুভূতি এবং সমাজের কিছু মানুষের অবহেলা থেকে উদ্ভূত দুঃখ। তিনি আরও যোগ করেন, এই ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি নিজের জন্য একটি মানসিক শান্তি পেয়েছেন, যা তার দৈনন্দিন জীবনের চাপ কমিয়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা রাজুর এই উদ্যোগকে প্রশংসা করছেন, যদিও কিছু লোক এখনও পথকুকুরকে দূরে রাখার প্রবণতা বজায় রেখেছে। তবে রাজু আহমদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা কুকুরদের জন্য কিছুটা নিরাপত্তা ও খাবার নিশ্চিত করেছে, বিশেষ করে শীতের কঠিন সময়ে।
রাজু আহমদ ভবিষ্যতে আরও বেশি কুকুরকে খাবার ও আশ্রয় দিতে চান, এবং আশাকরি স্থানীয় সমাজও এই মানবিক কাজকে সমর্থন করবে। তার এই ছোট উদ্যোগটি স্থানীয় সম্প্রদায়ে মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



