22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাযুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার শুল্ক হ্রাস প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার শুল্ক হ্রাস প্রস্তাব

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ৮ জানুয়ারি স্থানীয় সময় বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই দিনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য উপদেষ্টা ব্রেন্ডন লিঞ্চের সাথেও আলাদা আলোচনা করেন। বৈঠকের তথ্য শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত হয়।

বৈঠকে ড. খলিলুর বর্তমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়নের আগে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ঘাটতি হ্রাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ড. খলিলুর বর্তমান ২০ শতাংশের পাল্টা শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যগুলোর প্রতিযোগিতা বাড়াতে এই হ্রাসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। প্রস্তাবটি গ্রিয়ার ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং বিবেচনার জন্য সম্মতি জানান।

বিশেষত প্রস্তুত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের উপাদান ব্যবহার করে উৎপাদন হয়, শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। গ্রিয়ার এই প্রস্তাবকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন, যা রেডি-মেড গার্মেন্টস সেক্টরের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত ও কার্যকর করার জন্য একটি সময়সূচি নির্ধারিত হয়। বাকি থাকা অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের জন্য উভয় পক্ষই ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়। এই সমঝোতা বাণিজ্যিক পরিবেশকে স্থিতিশীল করে ভবিষ্যতে বৃহত্তর লেনদেনের ভিত্তি তৈরি করবে।

ড. খলিলুর উল্লেখ করেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্পর্কের পরিসর ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। উভয় দেশের কোম্পানি ও রপ্তানিকারকরা নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান উভয়ই বাড়াতে সহায়ক হবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যবসায়িক ভ্রমণকে সহজতর করবে। ড. খলিলুর গ্রিয়ারকে এই প্রক্রিয়ার দ্রুত বাস্তবায়ন ও ব্যবসায়িক ভিজিটের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সক্রিয় সমর্থন চেয়েছেন।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (DFC) থেকে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ড. খলিলুরের অনুরোধের ওপর গ্রিয়ার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন, যা প্রকল্প অর্থায়ন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে সহায়তা করবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন, যা আলোচনার উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় নিশ্চিত করেছে। উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক নীতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সারসংক্ষেপে, শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব ও পারস্পরিক চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ বাজারে প্রবেশের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দু’দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন প্রত্যাশিত।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments