বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম, তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে ফেসবুকে মন্তব্য করেন এবং একই পোস্টে বোর্ডের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদও উল্লেখ করেন। পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এবং গভীর রাতে মুছে ফেলা হয়।
তামিম ইকবাল, যিনি দেশের সর্বকালের সফলতম ওপেনার এবং পূর্বে জাতীয় অধিনায়ক ছিলেন, পোস্টে উল্লেখিত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন তোলা হয় যে তিনি যদি বোর্ডের সদস্য হতেন, তবে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন। নাজমুল ইসলাম বলেন, ভবিষ্যতকে মাথায় রেখে কোনো হঠাৎ মন্তব্যের বদলে বিস্তৃত আলোচনা এবং বিশ্লেষণ করা উচিত।
ডিরেক্টর নাজমুলের মন্তব্যে তিনি আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়াকে ‘দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেন এবং এ সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সব সিদ্ধান্তকে ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে নিতে হবে।
বিসিবি বোর্ডের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সফর না করা, যা সরকারী নির্দেশনা অনুসারে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। যদিও প্রথমে এই পদক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা ছিল না, তবে সরকারী হস্তক্ষেপের ফলে বোর্ডকে বাধ্য হতে হয়েছে। নাজমুলের মন্তব্যে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাজমুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ অর্থ আইসিসি (ICC) থেকে আসে। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এই আর্থিক নির্ভরতা এবং দেশের সামগ্রিক ক্রিকেটের উন্নয়নকে বিবেচনা করা অপরিহার্য। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিসিবি নির্বাচনের পর নাজমুলের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ৬ অক্টোবর ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমির কাউন্সিলর পদে ৩৭ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর, পরের দিনই তাকে বোর্ডের অর্থ কমিটির দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই পদবী তাকে আর্থিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেয়।
নির্বাচনের পর থেকেই বিসিবি নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিভিন্ন মিডিয়া এই নির্বাচনকে নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ে, তবে নাজমুলের নতুন দায়িত্বের ফলে বোর্ডের আর্থিক নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ হয়েছে।
তামিমের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নাজমুলের পোস্টে তিনি তামিমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশের ক্রিকেটের স্বার্থের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, তামিমের মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে, দীর্ঘমেয়াদে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে সহায়তা করা উচিত।
বিসিবি পরিচালকের ফেসবুক পোস্টে তামিমের প্রতি ‘দালাল’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়, যা তামিমের সমর্থক ও ক্রিকেট প্রেমিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা এবং মন্তব্যের পর, নাজমুল পোস্টটি মুছে ফেলেন, তবে তার মূল বক্তব্য ও যুক্তি এখনও প্রকাশিত হয়েছে।
নাজমুলের মন্তব্যে তিনি পুনরায় জোর দেন, যে কোনো সিদ্ধান্তের আগে বিস্তৃত আলোচনা এবং বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, যাতে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকে। তিনি বলেন, হঠাৎ মন্তব্যের বদলে সমন্বিত পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত।
বিসিবি বোর্ডের আর্থিক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নাজমুলের বক্তব্য স্পষ্ট করে যে, দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সব সিদ্ধান্তকে আর্থিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিবেচনা করে নিতে হবে।
সামগ্রিকভাবে, নাজমুলের পোস্ট এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নীতি, সরকারী নির্দেশনা এবং তামিমের মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের মতামতের মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই সমন্বয় ঘটবে, তা দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।



