ধাক্কা ক্যাপিটালসের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মিঠুনের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্তের ফলে সিলেট টাইটান্সের মইন আলি ১৯তম ওভারে ২৮ রান সংগ্রহ করেন, যা ম্যাচের ফলাফলকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে। এই ঘটনার পর মিঠুন নিজেই এটিকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় ভুল বলে স্বীকার করেন।
ম্যাচটি বৃহস্পতিবার সিলেটের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রথম ১৮ ওভারে সিলেট ১৩৫ রান করে পাঁচটি উইকেট হারায়। ধাক্কা ক্যাপিটালসের আফগান পেসার জিয়াউর রহমান ১৯তম ওভারের শুরুতে দুই রান দিয়ে দুজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে আউট করেন, ফলে সিলেটের স্কোরে সাময়িক স্থিতি আসে।
এরপর ধাক্কা ক্যাপিটালসের ক্যাপ্টেন মিঠুন নাসির হোসেনকে অফ-স্পিনার হিসেবে ১৯তম ওভারে পাঠান। নাসিরের আগে তিন ওভারে মাত্র সাত রান (একটি মেডেনসহ) দিয়ে তিনি ভাল পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন, তাই মিঠুন তার ওপর আস্থা রাখেন। কিন্তু এই ওভারে পরিস্থিতি বদলে যায়।
সিলেটের মইন আলি দ্রুত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তিনি একের পর এক ছক্কা মারেন, তিনটি ছক্কা, দুটি চার এবং একটি ডাবল হিট করে এক ওভারে ২৮ রান যোগ করেন। এই ওভারটি এই মৌসুমের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ওভার হিসেবে রেকর্ড হয়।
মিঠুনের মতে, নাসিরকে এই সময়ে ব্যবহার করা তার বড় ভুলের একটি। তিনি বলেন, নাসিরের পূর্বের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তিনি তাকে আনা ঠিক মনে করছিলেন, তবে শেষের ওভারগুলোতে অফ-স্পিনারদের ব্যবহার করা সাধারণ নয়। তিনি আরও যোগ করেন, যদি নাসিরের বদলে অন্য কোনো বোলার থাকত, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
নাসিরের ২৮ রান পর জিয়াউরের শেষ ওভার থেকে আরও ১৭ রান আসে, ফলে ধাক্কা ক্যাপিটালসের স্কোর দ্রুত বাড়ে। শেষ দুই ওভারে দুজন অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন প্রত্যেকের এক করে ওভার দেন, কিন্তু সিলেটের ব্যাটসম্যানরা শেষ মুহূর্তে ধারাবাহিকভাবে দৌড়ে ৪৫ রান যোগ করে মোট ১৮০ রানে পৌঁছায়।
এই অতিরিক্ত রান সিলেটকে ম্যাচে এগিয়ে নিয়ে যায়, যদিও তারা প্রথমে দেড়শ রান পিছিয়ে ছিল। শেষের দুই ওভারে সিলেটের আক্রমণাত্মক খেলা এবং মইন আলির বিশাল ওভারই ম্যাচের গতি পরিবর্তন করে।
মাঠে উভয় দলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ধাক্কা ক্যাপিটালসের পেসাররা মাঝারি রেটের রান দিচ্ছিল, আর সিলেটের ব্যাটসম্যানরা শেষের ওভারগুলোতে আক্রমণাত্মকভাবে রেট বাড়িয়ে দিচ্ছিল।
মিঠুনের স্বীকারোক্তিতে তিনি বলেন, “এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি। নাসিরের ওপর আমার আস্থা ছিল, কিন্তু আমি ভুল করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি অন্য কোনো বোলারকে ব্যবহার করতে পারতাম, তবে সময়ের চাপের মধ্যে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।”
মইন আলি এই সুযোগে তার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন, তিনি বলেন, “আমি যখন ওভারে ঢুকে পড়ি, তখন পুরো দলকে জয়ী করার ইচ্ছা থাকে। এই ওভারটি আমার জন্য বিশেষ, কারণ এতে আমরা ম্যাচের দিক পরিবর্তন করতে পেরেছি।”
ম্যাচের পরের সংবাদ সম্মেলনে দু’দলই পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন। ধাক্কা ক্যাপিটালসের কোচ দলকে বললেন, “আমরা এখন থেকে বোলারদের ব্যবহার নিয়ে আরও সতর্ক থাকব, বিশেষ করে শেষের ওভারগুলোতে।” সিলেটের কোচও উল্লেখ করেন, “মুইন আলির এই পারফরম্যান্স আমাদের জন্য বড় প্রেরণা, আমরা পরের ম্যাচেও এভাবেই আক্রমণ চালিয়ে যাব।”
এই ম্যাচটি বোলিং কৌশল এবং শেষের ওভার ব্যবস্থাপনার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। ধাক্কা ক্যাপিটালসের ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্তের ভুল সিলেটের জয়কে সহজ করে দেয়, আর সিলেটের মইন আলির বিশাল ওভারটি এই মৌসুমের স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।



