সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোর কয়েকটি পাড়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি দেশের সেনাবাহিনী ও কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের পর নেওয়া হয়েছে।
আলেপ্পোর আশরাফিয়াহ, শেখ মাকসুদ, বানি জেইদ, আল-সুরিয়ান, আল-হুল্লুক ও আল-মিদান এলাকায় চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা কমান্ডের মতে, এই পদক্ষেপটি বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষতি রোধের জন্য অপরিহার্য।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, নিরাপত্তা কমান্ডের নির্দেশে এই কারফিউ প্রয়োগ করা হয়েছে এবং কোনো ব্যতিক্রম অনুমোদিত নয়। এলাকায় প্রবেশের জন্য বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনো গাড়ি বা পায়ে হেঁটে চলাচল করা যাবে না।
একই সময়ে, সিরিয়ান সেনাবাহিনী এসডিএফের অবস্থানকে লক্ষ্য করে ভারী এবং লক্ষ্যভিত্তিক গোলাবর্ষণ চালু করেছে। এই আক্রমণটি এসডিএফের পূর্ববর্তী হামলার জবাবে নেওয়া হয়েছে, যেখানে শহরের আবাসিক এলাকায় ধারাবাহিকভাবে গোলাবর্ষণ চালিয়ে গিয়ে কমপক্ষে নয়জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে।
এসডিএফের পক্ষ থেকে জানানো তথ্য অনুযায়ী, তাদের হামলায় বেসামরিক প্রাণহানি ঘটলেও তারা কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য শহরের কিছু অংশে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চেয়েছে। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নাগরিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি করছে।
পটভূমিতে, ১০ মার্চ ২০২৪-এ সিরিয়ার প্রেসিডেন্সি এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ঘোষণা দেয়। চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের ভূখণ্ডগত ঐক্য রক্ষা এবং কোনো বিভাজন প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী মাসগুলোতে এসডিএফের শর্তাবলী বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বাশার আল-আসাদের ২৪ বছর শাসনের পতনের পর, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে সিরিয়ান সরকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে। আলেপ্পোর কারফিউ এই বৃহত্তর নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সরকার শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনাকে সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের নতুন পর্যায় হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন। একটি কূটনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “আলেপ্পোর কারফিউ এবং তীব্র গোলাবর্ষণ অঞ্চলীয় উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে, যা প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য উদ্বেগের বিষয়।” যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা উভয়ই পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন, তবে সরাসরি হস্তক্ষেপের কোনো সংকেত দেয়নি।
বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে সিরিয়ার নিরাপত্তা নীতি কীভাবে বিকশিত হবে তা নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন। যদি এসডিএফের সঙ্গে চুক্তির বাস্তবায়ন না হয়, তবে আরও কারফিউ এবং সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়বে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবিক সংস্থাগুলি জরুরি সহায়তা ও নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য ত্বরিত ব্যবস্থা চায়, আর সিরিয়ার সরকারকে এই চাহিদা মেটাতে হবে, নতুবা মানবিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে।



