গোল্ডেন গ্লোবসের দুইটি নতুন সম্মান, সিসেল বি. ডেমিল পুরস্কার ও ক্যারোল বার্নেট পুরস্কার, প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে ‘গোল্ডেন ইভ’ নামে এক বিশেষ অনুষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। এই রাতে হেলেন মিরেন ও সারা জেসিকা পার্কার উভয়েই সম্মানপ্রাপ্ত হন। অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার বেভারলি হিলসের বেভারলি হিলটন হোটেলে রেকর্ড করা হয় এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিবিএস ও পারামাউন্ট+ চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
‘গোল্ডেন ইভ’ নামটি গোল্ডেন গ্লোবসের ঐতিহাসিক রাতের পূর্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দুইটি সম্মানপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আলাদা করে উদযাপন করা হয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল পুরস্কারপ্রাপ্তদের ক্যারিয়ার ও অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো, পাশাপাশি দর্শকদের জন্য নতুন ধরনের বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতা তৈরি করা।
প্রসারিত অনুষ্ঠানটি সারা রাতের টেলিভিশন শোয়ের অংশ হিসেবে পরিকল্পিত, ফলে দর্শকরা সরাসরি সিবিএস ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠানটি দেখতে পেয়েছেন। টেলিভিশন সম্প্রচারের আগে, টেকনিশিয়ান ও স্টাফের কঠোর প্রস্তুতি নিশ্চিত করেছে যে ক্যামেরা, সাউন্ড ও আলো সবই নিখুঁতভাবে কাজ করবে।
বেভারলি হিলটনের গ্ল্যামারাস হলের মধ্যে অতিথিদের স্বাগত জানাতে ক্যারি ব্র্যাডশোর স্বাক্ষর পানীয় ‘কসমো’ পরিবেশন করা হয়। এই ককটেলটি টেবিলের এক কোণে সাজানো ছিল, এবং অতিথিরা তা হাতে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্লাসে ঢালার বদলে তৎক্ষণাৎ চুমুক দিয়ে ফেলতে দেখা যায়।
কিছু অতিথি পানীয়টি আগে থেকেই শেষ করে ফেলায়, টেড ড্যানসন, যিনি গত বছর ক্যারোল বার্নেট পুরস্কার পেয়েছিলেন, তার টেবিলে দ্বিতীয় রাউন্ডের আহ্বান জানিয়ে মঞ্চে হাস্যরসের ছোঁয়া যোগ করেন। ড্যানসন দ্রুতই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন, তার উচ্ছ্বাসপূর্ণ স্বরে উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে দেন।
ড্যানসন পরবর্তীতে ক্যারোল বার্নেটকে মঞ্চে আনে, যিনি আনন্দের সঙ্গে বলেন, “আমি আজ রাতে এখানে থাকতে পেরে খুবই উল্লসিত, বিশেষ করে সারা জেসিকা পার্কারের জন্য।” তার এই উক্তি পার্কারের প্রতি গভীর স্নেহ ও সম্মান প্রকাশ করে।
হেলেন মিরেনকে সিসেল বি. ডেমিল পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়, যা চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী অবদানের স্বীকৃতি। মিরেনের ক্যারিয়ার, তার অসাধারণ অভিনয় ও মানবিক কাজের কথা মঞ্চে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়।
সারা জেসিকা পার্কারকে ক্যারোল বার্নেট পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়, যা টেলিভিশন কমেডি ও নাটকের ক্ষেত্রে তার বিশাল প্রভাবের স্বীকৃতি। পার্কারের স্বামী ম্যাথিউ ব্রোডরিক, ‘সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি’ সিরিজের সহ-অভিনেত্রী ক্রিস্টিন ডেভিস এবং অভিনেতা কলম্যান ডোমিঙ্গো উপস্থিত ছিলেন।
কলম্যান ডোমিঙ্গো মঞ্চে উঠে একটি কসমো টোস্ট দেন, “যে নারী আমাদের দিকনির্দেশনা ও সঙ্গী উভয়ই ছিলেন, তার জন্য।” এই টোস্টটি পার্কারের ক্যারিয়ারের বহু দিককে সম্মান জানিয়ে একটি উষ্ণ মুহূর্ত তৈরি করে।
ক্রিস্টিন ডেভিস পার্কারের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের ২৮ বছর আগে ফিরে তাকিয়ে বলেন, “তার কোমল মনোভাব, যত্নশীল স্বভাব এবং জিজ্ঞাসু স্বভাব আমাকে তৎক্ষণাৎ মুগ্ধ করেছিল। তা থেকেই শুরু হয়েছিল আমাদের অসাধারণ যাত্রা।” ডেভিসের এই স্মৃতি পার্কারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বের গভীরতা প্রকাশ করে।
ম্যাথিউ ব্রোডরিকও পার্কারের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি শেয়ার করেন, যখন তিনি সিনেমা হলের এক কোণায় তাকে দেখেছিলেন এবং ভাবেছিলেন, “এটি এমন এক শক্তি যা মোকাবেলা করা দরকার।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্কার তাকে ‘সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি’ পাইলট স্ক্রিপ্ট পড়তে বলেছিলেন, যা তিনি পড়ে সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারলেন যে এটি একটি চমৎকার কাজ এবং সফল টিভি সিরিজে অংশগ্রহণের ফলে তার জীবন পরিবর্তিত হয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে জর্জ ক্লুনি, জুলিয়া রবার্টস এবং ম্যাকলয় কুলকিনের মতো বিশিষ্ট শিল্পীও উপস্থাপক হিসেবে অংশ নেন, যা অনুষ্ঠানের গ্ল্যামার বাড়িয়ে দেয়। ‘গোল্ডেন ইভ’ প্রথমবারের মতো প্রাইমটাইমে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হওয়ায়, দর্শকরা এই অনন্য উদযাপনটি সরাসরি উপভোগ করতে পেরেছেন এবং ভবিষ্যতে এমনই আরও অনুষ্ঠান প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



