খালেদ মাহমুদ ২০২৪ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে তিনটি ভিন্ন দলে কোচিং দায়িত্বে ছিলেন, তবে প্রত্যেকেই ধারাবাহিক হারের মুখোমুখি হয়েছে। প্রথমে তিনি ঢাকা প্রধান দলে ছিলেন; দলটি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও পরের এগারো ম্যাচে পরাজিত হয়ে টেবিলের তলানিতে শেষ করেছিল।
এরপর ঢাকা ক্যাপিটালসের দায়িত্ব নিলেন মাহমুদ। টুর্নামেন্টের প্রথম ছয় ম্যাচে দলটি ধারাবাহিকভাবে হেরে, এরপর তিনটি জয় ও একটি হারের পর আবার দুইটি পরাজয় দিয়ে সিজন শেষ করে আবারও পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকে নেমে আসে।
নতুন দায়িত্বে নোয়াখালী এক্সপ্রেসে যোগ দেওয়ার পর কোচের মুখে প্রথম দিনই নেতিবাচক মন্তব্য শোনা যায়। অনুশীলনে পর্যাপ্ত বল না পাওয়ার অভিযোগে তিনি দল ত্যাগের ইঙ্গিত দেন, সিএনজিতে চড়ে মাঠ ছেড়ে যান, তবে কয়েক ঘণ্টা পরই পরিস্থিতি ‘মুহূর্তের উত্তেজনা’ বলে আবার দলে ফিরে আসেন।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পারফরম্যান্স কোচের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। টুর্নামেন্টে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ ব্যতীত সব ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানভাবে লড়াই করতে পারেনি। দ্বিতীয় ম্যাচে মেহেদী হাসান রানা হ্যাটট্রিক করে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুললেও, শেষের দিকে সিলেটের কাছে এক উইকেটের পার্থক্যে হেরে যায়।
দলটি মোট ছয়টি পরপর হারে শেষ করে, সমর্থক সৌম্যরাও ১৩ ঘণ্টা আগে প্রকাশিত একটি পোস্টে তার কষ্টের কথা জানিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে নোয়াখালী চট্টগ্রাম রয়্যালসের হাতে ৬৫ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়; রয়্যালসের দুজন বিদেশি খেলোয়াড় ছিলেন মাত্র – মির্জা বেগ এবং রহমানউল্লাহ গুরবাজের ভাই মাসুদ গুরবাজ।
দ্বিতীয় ম্যাচের পরের সব ম্যাচে নোয়াখালীয়ের পারফরম্যান্স তেমন আলাদা না হয়ে, ধারাবাহিকভাবে হারের ধারায় আটকে থাকে। কোচের প্রত্যাশা সত্ত্বেও দলটি কোনো বড় জয় অর্জন করতে পারে না, ফলে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে তারা আবারও টেবিলের নিচের দিকে নেমে আসে।
খালেদ মাহমুদ ২০১২ সালে বিপিএলের উদ্বোধনী সিজনে কোচিংয়ে প্রবেশ করেন, তখন চিটাগং কিংসের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছয় দলের টুর্নামেন্টে চিটাগং পঞ্চম স্থানে শেষ করলেও, তার কোচিং ক্যারিয়ার এখানেই থেমে থাকে না।
পরের বছর, ২০১৩ সালে, তিনি বরিশাল বার্নার্সের সহকারী কোচের দায়িত্বে ছিলেন। সাত দলের টুর্নামেন্টে দলটি ষষ্ঠ স্থানে শেষ করে, ফলে তার কোচিং অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয়।
বিপিএলের শীর্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে কোচ হিসেবে তার যাত্রা যদিও কিছু সফল মুহূর্ত দেখিয়েছে, তবে সাম্প্রতিক সিজনে ধারাবাহিক পরাজয় তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
কোচের মন্তব্যে তিনি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ও সরঞ্জাম সংক্রান্ত সমস্যাকে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি দলের মনোবল বাড়াতে এবং পরবর্তী ম্যাচে সাফল্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রমের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পরবর্তী ম্যাচের সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে দলটি শীঘ্রই আবার মাঠে নামবে এবং কোচের নেতৃত্বে শেষ পর্যন্ত কী ফলাফল অর্জন করবে তা ক্রীড়া জগতের নজরে থাকবে।



