27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিভেনেজুয়েলা সরকার রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি শুরু করেছে

ভেনেজুয়েলা সরকার রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি শুরু করেছে

ভেনেজুয়েলার সরকার মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে চিহ্নিত করা কারাবন্দীদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে; এটি সরকারী সূত্রে সদিচ্ছার একটি পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, পাঁচজন স্প্যানিশ নাগরিক, যার মধ্যে একজন দ্বৈত নাগরিক, ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছেন; তাদের মধ্যে মানবাধিকার কর্মী রোসিও সান মিগুয়েল অন্তর্ভুক্ত।

এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের পর আসে, যখন শনি-রাতে যুক্তরাষ্ট্রের দল ক্যারাকাসে নিকোলাস মাদুরোর বাড়িতে হঠাৎ আক্রমণ করে তাকে নিউ ইয়র্কে মাদক পাচার মামলায় আদালতে হাজির করে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবি করে আসছে, বিশেষ করে নির্বাচনের সময় বা প্রতিবাদে দমন বাড়ার মুহূর্তে।

ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান জর্জ রদ্রিগেজ, যিনি সাময়িক প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই, রাষ্ট্র টেলিভিশনে জানিয়েছেন যে, “বড় সংখ্যক” বন্দী তৎক্ষণাৎ মুক্তি পাবে, তবে মুক্তি প্রাপ্তদের সংখ্যা বা পরিচয় স্পষ্ট করা হয়নি। বর্তমানে দেশের কারাগারে শত শত রাজনৈতিক বন্দী রয়েছে, এবং এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েকজনের মুক্তি নিশ্চিত হয়েছে।

রদ্রিগেজের মতে, সাময়িক সরকার জাতীয় ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্বার্থে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রোসিও সান মিগুয়েল, যিনি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং ভেনেজুয়েলার সামরিক বিষয়ের বিশেষজ্ঞ, প্রথম নিশ্চিতভাবে মুক্তি প্রাপ্ত বন্দী হিসেবে প্রকাশিত হয়েছেন। তিনি ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ ক্যারাকাসের নিকটবর্তী মাইকুয়েটিয়া বিমানবন্দরে গ্রেফতার হন।

সেই সময়ে রোসিওকে মাদুরোর বিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং তাকে রাষ্ট্রপতি হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়; তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ, ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের অভিযোগ আনা হয়। তার মুক্তি মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সতর্ক আশাবাদী করেছে; যদিও কিছু সংস্থা, যাদের সদস্য বা প্রতিষ্ঠাতা কারাগারে রয়েছে, এই খবরকে সতর্কতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছে।

ডেলসি রদ্রিগেজের সাময়িক প্রশাসন, যিনি মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে; মাদুরোকে গ্রেফতার করার পর থেকে তারা দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিস্তৃত ঘোষণাপত্র জারি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি আন্তর্জাতিক চাপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে খ্যাতনামা কারাগারগুলোর একটি, যাকে “এল এচ” নামে পরিচিত, সেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ জন বন্দী আটক রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই কারাগারের অবস্থার ওপর মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, এবং মুক্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার সরকার এই পদক্ষেপকে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, এই ধরনের মুক্তি দীর্ঘমেয়াদী দমনমূলক নীতি পরিবর্তনের সূচক নাও হতে পারে, এবং ভবিষ্যতে আরও মুক্তি বা রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি বাড়তে পারে।

সামগ্রিকভাবে, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি এবং আন্তর্জাতিক চাপের সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারী ঘোষণার পরবর্তী ধাপগুলোতে মুক্তি প্রাপ্তদের সংখ্যা, তাদের পরিচয় এবং মুক্তির শর্তাবলী স্পষ্ট করা হবে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments