৩১ বছর আগে, নায়রোবির উইলসন এয়ারপোর্টের একটি ছোট অফিসে দুই কেনেডিয়ান পাইলট হুসেইন মোহাম্মদ আনশূর এবং মোহাম্মদ আদানকে নাইজেরিয়ার একজন কূটনীতিক অপ্রত্যাশিতভাবে দেখা দিলেন। কূটনীতিকের সরাসরি অনুরোধে তারা সোমালিয়ার প্রাক্তন শাসক সিয়াদ বারের দেহকে নাইজেরিয়ার ল্যাগোস থেকে তার জন্মস্থান গারবাহারেতে গোপনভাবে পরিবহন করার কাজ পেয়েছিলেন। বার, যিনি ৮০ বছর বয়সে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে পালিয়ে গিয়ে নাইজেরিয়ায় নির্বাসনে ছিলেন।
আনশূর, যিনি পূর্বে কেনেডিয়ান এয়ার ফোর্সের ক্যাপ্টেন ছিলেন এবং আদানসহ ব্লুবার্ড এভিয়েশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, তখন এই অনুরোধে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে কূটনীতিকের কথায় কোনো অলংকরণ ছিল না, সরাসরি জাহাজ ভাড়া করে দেহটি গোপনভাবে ল্যাগোস থেকে গারবাহারেতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। মোট দূরত্ব প্রায় ৪,৩০০ কিলোমিটার, যা আফ্রিকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অতিক্রমের সমান।
এই কাজটি স্বাভাবিক চার্টার ভ্রমণের মতো নয়, তাই পাইলটরা তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। তারা জানতেন যে কেনেডিয়ার সরকার, তখন ড্যানিয়েল আরাপ ময়ির শাসনে, যদি এই গোপন মিশন সম্পর্কে জানে, তবে তা বড় রাজনৈতিক সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই পুরো দিনটি তারা এই অনুরোধ গ্রহণের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আলোচনা করেন, বিশেষ করে কেনেডিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব বিবেচনা করে।
সিয়াদ বার ১৯৬৯ সালে কোনো রক্তপাত ছাড়াই ক্ষমতা দখল করেন এবং তার শাসনকালকে প্যান-আফ্রিকানবাদী নীতি ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের সমর্থন দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। তবে তার শাসনকে স্বৈরাচারী হিসেবে সমালোচনা করা হয় এবং ১৯৯১ সালে সশস্ত্র গোষ্ঠীর আক্রমণে তিনি ক্ষমতা হারান। তার দেহকে সোমালিয়ায় ফিরিয়ে দেওয়া রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল, কারণ এটি বিভিন্ন সরকার ও আঞ্চলিক সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
আনশূর এবং আদান শেষ পর্যন্ত মিশনটি গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা গোপনীয়তার সর্বোচ্চ মাত্রায় সম্পন্ন করা হয়। তারা গারবাহারেতে পৌঁছে দেহটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করেন, যেখানে তা সমাধিস্থল প্রস্তুত করা হয়। এই গোপন পরিবহন কাজটি কেনেডিয়ার সরকারী রেকর্ডে কখনো প্রকাশ পায়নি এবং পাইলটদের ব্যক্তিগত ঝুঁকি সত্ত্বেও তারা মিশনটি সফলভাবে শেষ করেন।
এই ঘটনাটি আফ্রিকান রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অপ্রকাশিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে যায়, যা দেখায় কিভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও গোপন চুক্তি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক জটিলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে সিয়াদ বারের সমাধি স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হতে পারে, বিশেষ করে সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে। এছাড়া, কেনেডিয়ার সরকারী নীতি ও গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে, যেহেতু এই ধরনের মিশন সরকারী নজরদারির বাইরে সম্পন্ন হয়েছে।
এই গোপন মিশনটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতি, মানবিক দায়িত্ব এবং জাতীয় স্বার্থের সংযোগস্থলে একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি প্রাক্তন শাসকের শেষকৃত্যকে তার জন্মভূমিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।



